করোনা পরীক্ষা-চিকিৎসা রাষ্ট্রীয় খরচে করতে হবে: বাসদ

প্রকাশিত

নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতালে ফি নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ একটি বৈশ্বিক মহামারী। ফলে এর পরীক্ষা ও চিকিৎসা সরকারি উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় খরচেই করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার শুরু থেকে করোনা পরীক্ষা নিয়ে নানা টালবাহানা করে প্রথমে একটি ল্যাবে পরীক্ষা করে। এখন ৬০-৬২ ল্যাবে পরীক্ষা হলেও কম নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা দরকার এবং প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় ল্যাব স্থাপন করা প্রয়োজন, তা না করে সরকার এখন করোনা পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, করোনার কারণে মানুষ কাজ হারিয়ে রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, সেখানে নতুন করে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর শামিল। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যদি এক পরিবারে চার-পাঁচজনের করোনা পরীক্ষা করতে হয়, তাহলে ২০-২৫ হাজার টাকা লাগবে। এ ব্যয় নির্বাহ করা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত গরিব সাধারণ মানুষের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য খাতকেও ব্যবসায়ীদের মুনাফার দৃষ্টিতে দেখে আসছে। তারই প্রতিফলন করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের পাঁয়তারা।

ফি নির্ধারণের অপচেষ্টা বন্ধ করা এবং সব বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে বিনা মূল্যে সব নাগরিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার দাবি জানান খালেকুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।