কাজিপুরের খড় যাচ্ছে দেশের নানা স্থানে

প্রকাশিত

মিজান রহমান : কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি :-কাজিপুরের ঢেকুরিয়া শহিদ মনসুর আলী ইকোপার্কের নৌঘাট। সকাল সকাল এই ঘাটে আসে খড়বোঝাই ১০/১২টি ভটভটি (নসিমন)। এগিয়ে আসে জনা পঞ্চাশেক শ্রমিক। তারা গাড়ি থেকে খড়ের গাদা ঘাটের পাশে নামায়। এরপর খড়গুলো থেকে ছোট ছোট আঁটি তৈরি করে। এভাবে বিকেল অবধি কয়েক শ আঁটি তৈরি হয়ে যায়। এগুলো বহনের জন্যে ঘাটে উপস্থিত ১০/১২টি নৌকা। শ্রমিকরা সেই খড়ের আঁটিগুলো নৌকায় বিশেষ কায়দায় ভরে দেয়। এরপর নৌকার যাত্রা দূরদূরান্তের গন্তব্যে।

গত বুধবার কাজিপুরের যমুনার ওই ঘাটে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। এসময় কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি এই কাজের সাথে জড়িত।

শহিদুল এই প্রতিবেদককে জানান, পাশের বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খড়ের গাদা কিনে নেওয়া নয়। পরে ভটভটিযোগে এই ঘাটে এনে তা নতুন করে আঁটি করা হয়। তিনি জানান, মাসে কমপক্ষে কুড়ি দিন এই ঘাটে গড়ে ৫০/৫৫ জন  শ্রমিক কাজ করে। নৌকাবোঝাই করে দেওয়ার চুক্তিতে তারা এই কাজ করে। নৌকাপ্রতি তারা পাঁচ শ থেকে ছয় শ টাকা করে পায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে খড়ের চালান বেশি যায়।

কথা হয় এই ব্যবসার সাথে জড়িত আলমগীর হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এই ঘাট দিয়ে মাসে কমপক্ষে এক থেকে দেড় শ নৌকা খড় নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে যায়। সবচেয়ে বেশি খড়বোঝাই নৌকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় যায়। বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি খড় বোঝাই নৌকা এই ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। খড় বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতিনৌকা থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ হয় বলে তিনি জানান।

ঢেকুরিয়া ঘাটের লেবার সর্দার মোকতাল হোসেন জানান, সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন আমাদের ৫৫ থেকে ৬০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করে। প্রতিজন দিনে গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা উপার্জন করে। রোদ এবং বৃষ্টির সময়ে শ্রমিকদের আশ্রয়ের জন্যে এই ঘাটে একটি ছাউনি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।