কুমিল্লায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল সিলগালা

প্রকাশিত

জেলা প্রতিনিধি ,কুমিল্লা- কুমিল্লার দাউদকান্দিতে রংধনু নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় নুরজাহান বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ওই হাসপাতাল সিলগালা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসা অবহেলার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে বুধবার দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব আলম রংধনু হাসপাতালটি সিলগালা করেন।

এ সময় দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জালাল হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাহিনূর আলম সুমন উপস্থিত ছিলেন।

নিহত প্রসূতি নুরজাহান বেগম তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বাঘাইরামপুর গ্রামের মো. ডালিম মিয়ার স্ত্রী।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৫টায় দাউদকান্দির গৌরীপুর রংধনু হাসপাতালে প্রসূতি নুরজাহানের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। সেখানে তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. শাহনাজ পারভীন এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করেন ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম। কিন্তু চিকিৎসা অবহেলায় ২৫ আগস্ট শনিবার সকালে রোগীর পেট ফুলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ওইদিন বিকেল ৪টায় রোগীকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

রোববার রাত ২টায় ঢামেকে ভর্তি করার পর সেখানে নুরজাহানের দ্বিতীয় বার পেটে অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরজাহানের মৃত্যু হয়।

সোমবার রোগীর স্বজনরা নুরজাহানের মরদেহ নিয়ে রংধনু হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। ওইদিন পুলিশ উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে মরদেহ থানায় নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জালাল হোসেন জানান, ওই প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলায় প্রমাণ পেয়ে ওই হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান জানান, রংধনু প্রাইভেট হাসপাতালের অনুমোদন থাকলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ। লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। তাই তা সিলগালা করা হয়েছে।