কুমিল্লা বুড়িচংয়ে হাতে মেহেদীর রং মুছার আগেই নববধূর আত্মহত্যা।

প্রকাশিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ভারেল্লা পূর্বপাড়া গ্রামে বিয়ের ১০ দিন না যেতে বলে বাড়ির অন্য কাউকে বুঝতে না দিয়ে তানজিনা আক্তার  নামে এক নববধূ ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা পূর্বপাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ প্রেরন করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারেল্লা পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ শাহআলমের ছেলে রবিউল্লাহ (২৪) পারিবারিক সম্মতিতে গত ১৬ জুলাই পাশ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুর পূর্বপাড়া গাজী বাড়ির দুলাল মিয়ার কন্যা তানজিনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। নববধূ তানজিনা তার স্বামী রবিউল্লাহ পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। কাজের সুবাদে পাশের গ্রাম আবিদপুরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তানজিনা তার শাশুড়ির মোবাইল দিয়ে একটি নামবারে কথা বলা শেষে নামবারটি মুছে তার শাশুড়িকে মোবাইলটি ফিরত দেয়। ২৫ জুলাই দুপুরে তানজিনা বাড়ির লোকজনদেরকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সে তার নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা, জানালা আটকিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি রবিউল্লাহর বড় ভাইয়ের স্ত্রী বুঝতে  পেয়ে তিনি বাড়ির আশেপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে দরজা খুলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে দরজাটি ভেঙ্গে দেখতে পায় তানজিনার নিথর দেহটি সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ঝুলন্তবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি বুড়িচং থানাধীন দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে উপ-পরিদর্শক (এস.আই) জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনাস্থল এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সুরুতহাল করে নিহত তানজিনার লাশ উদ্ধার দেবপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ রবিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ নিহতের লাশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন।
পরে নিহতের লাশ রবিবার বাদ মাগরিব তার  স্বামীর বাড়ির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।