কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি মতিন খসরু করোনায় মৃত্যু ফেসবুকে গুজব! সাংবাদিকসহ আটক-২

প্রকাশিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি :

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এমপি ও সাবেক আইনমন্ত্রী এড.আবদুল মতিন খসরু করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে মারা গেছেন ফেসবুকে গুজব ছড়ানোসহ তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বুড়িচং থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এঘটনায় সাংবাদিকসহ দুইজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে  বুড়িচং থানা মামলা নং ০১,  ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর অধীনে ২৫(১) ২৯(১) / ৩১(১)/৩৫ মোতাবেক বুড়িচং ছাত্রলীগ নেতা আল- আমিন বাদী হয়ে সাবিয়া রেহমান, ফরহাদ খান এবং মাহফুজ বাবুর বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লা পুলিশ সুপারের নির্দেশে রাতেই মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পুলিশের নিকট প্রেরণ করা হয়। পরে গভীর রাতে ডিবি পুলিশের অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহার নামীয় ২ নং আসামী ফরহাদ খান এবং ৩ নং আসামী সাংবাদিক মাহফুজ বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, ফরহাদ খান (২৩) জেলার  বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ও মাহফুজ বাবু (৩৩) একই উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের ‍মৃত.আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায় ,  ‘সাবিয়া রেহমান’ নামের  একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত বুধবার পোষ্ট দেয়া হয়‘ আমরা অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে—এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি ৮ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে ৭ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে মারা গেছেন। পরে ওই আইডির ফ্রেন্ড লিল্টে থাকা এজাহার নামীয় ২ নং আসামী ফরহাদ খান কমেন্টসে লিখেন ‘ হালায় মরলে তো বালো ছিল, এখন নির্বাচন হলে দেখতেন মানুষের বাড়ি বাড়ি যাইতো’। মামলায় এজাহার নামীয় ৩ নং আসামী মাহফুজ বাবু তার নামের আইডি (মাহফুজ বাবু) দিয়ে লিখেন ‘ইন্নালিল্লাহি ওনার টাকা-পয়সা গুলি এখন গরীবদের বিলিয়ে দিয়ে পাপসাপ মাপ নিয়া দরকার।

মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা মো: আল আমিন ভূইয়া জানান, মামলায় অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজসে ফেসবুকে মিথ্যা গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে জীবিত এমপি মতিন খসরুকে মৃত ঘোষণা দিয়ে তাঁকে সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামী সাবিয়রা রেহমানের আইডির বিষয়ে তদন্ত করে তাকেও গ্রেফতারের দাবি করেছেন তিনি।

এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এস.আই) পরিমল চন্দ্র দাস জানান, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অভিযোগ স্বীকার করেছে। এজাহার নামীয় সাবিয়া রেহমানের ঠিকানা এখনো অজ্ঞাত, তার পরিচয় সনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃত আসামি ফরহাদ ও মাহফুজ বাবুকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন বলে তিনি জানান।