কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের ছয়দুন তবিয়ারগাতী গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার জানুর বিরুদ্ধে। ওই নেতা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের খরচের কথা বলে ইতোমধ্যে ৭০ জন গ্রাহকের প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এছাড়া বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ হওয়ার পর প্রত্যেক গ্রাহক ওই নেতাকে আরো সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ছয়দুন তবিয়ারগাতী গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক আব্দুল হাই খান, আবুল ফকির, কান্তু ভূইয়া, আব্দুল খালেক খান, আসলাম ভূইয়া, কামরুল খান ও জাহাঙ্গীর ভূইয়াসহ আরো বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, আব্দুল জব্বার জানুর নেতৃত্বে আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসছে। পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের খরচের কথা বলে তিনি আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছেন এবং লাইন নির্মাণের পর প্রত্যেকে তাকে আরো সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবী করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিদ্যুৎ গ্রাহক রেজাউল ইসলাম জানান, আমি নিজেও দুই হাজার টাকা দিয়েছি। আব্দুল জব্বার জানু সকল গ্রাহকের কাছ থেকেই দুই হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া গ্রাম সংলগ্ন কাদির খার বাড়ির খুঁটি থেকে সংযোগ নেওয়ার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল জব্বার জানু তার নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বড়তলা গ্রামের আজিবুরের বাড়ির সামনে স্থাপিত খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতে সরকারের প্রায় এক কিলোমিটার বিদ্যুৎ সংযোগের খরচ অপচয় হবে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার জানু সঙ্গে কথা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, আমি কোনো রাজনীতি করি না। আমি ব্যবসা করি। তবে আব্দুল জব্বার জানু ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন মোজাফরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ আহমেদ ভূইয়া।
নেত্রকোনা প্রল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মনিরুল হক জানান, পল্লীবিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গ্রাহকদের কোনো টাকা দিতে হয় না। যদি কেউ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।