কেপটাউনে পেসারদের দিন

প্রকাশিত

২৫ বছরের গøানি মুছে ফেলার স্বপ্ন নিয়ে এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিল ভারত। টেস্টে সেই জয়খরা কাটানোর শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি বিরাট কোহলির দলের। কেপটাউনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে উইকেটের সুবিধা বেশ ভালোই কাজে লাগিয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। এবি ডি ভিলিয়ার্স আর ফাফ ডু প্লেসির জোড়া হাফসেঞ্চুরির পরও প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানের বেশি এগুতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারাও স্বস্তিতে দিন শেষ করতে দেয়নি ভারতকে। মুরালি বিজয়-শিখর ধাওয়ানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছে ১৬ রানে। ১১ রানের মধ্যে ফিরে গেছেন বিজয় (১), ধাওয়ান (১৬) ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি (৫)। ৩ উইকেটে ২৮ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত।
প্রথম দিন কেপটাউন দেখেছে ১৪ উইকেটের পতন। দিনটি যে বোলারদের যাবে সেটি জানা গিয়েছে ম্যাচ শুরুর আগে দুই অধিনায়কের কথা থেকেই। তবে সেটা যে শুধু পেসারদের দিন হবে তা বোঝা গেল ম্যাচ শুরুর পর। হারানো উইকেটের ১২টির শিকারী পেসাররা। আরো মোটা দাগে বললে দিনটি ছিল পেসারদের। ভারতের পক্ষে ৪টি উইকেট নিয়েছেন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। একটি করে উইকেট হার্দিক পান্ডিয়া, মোহাম্মদ শামি আর জাসপ্রিত বুমরাহর। স্পিনার হিসেবে কেবল ২টি উইকেট নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। আর দক্ষিণ আফ্রিকান পেস স্বর্গে তাদের গতি তারকারাই নিয়েছেন ভারতের খোয়ানো তিন উইকেট। একটি করে ভাগাভাগি করেছেন ভারনন ফিলান্ড্যার, ডেল স্টেইন এবং মর্নে মরকেল।
টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেয়াই যেন কাল হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। পিচ থেকে পেসাররা বেশ সাহায্য পেয়েছেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতও শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। প্রোটিয়াদের বোর্ডে তখন মাত্র ১২ রান। ভুবনেশ্বর কুমারের দুর্দান্ত সুইংয়ে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ডিন এলগার। ৫ রান করে তারই এলবিডবিøউর শিকার এইডেন মার্করাম। এরপর অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা লাগিয়ে আউট প্রোটিয়া ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ হাশিম আমলা (৩)। ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমত ধুঁকছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ উইকেটে অবশ্য দলকে এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছেন ফাফ ডু প্লেসি আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। তারা গড়েছেন ১১৪ রানের বড় জুটি। দারুণ খেলতে থাকা ডি ভিলিয়ার্সকে বোল্ড করে শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভেঙে দেন অভিষিক্ত জাসপ্রিত বুমরাহ। ৮৪ বলে ১১ বাউন্ডারিতে ৬৫ রান করেন ভিলিয়ার্স। হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ফিরেন আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান ফাফ ডু প্লেসিস। ১০৪ বলে ১২ চারে ৬২ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। তিনি ফেরার পর আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৪০ বলে ৪৩ রানের ঝড় তুলে আউট হয়েছেন কুইন্টন ডি কক। কেশভ মহারাজ (৩৫), ভারনন ফিল্যান্ডার (২৩), কাগিসো রাবাদারা (২৬) নিচের দিকে অবদান রাখতে চেষ্টা করেছেন। না হয়, আরও কম রানেই গুটিয়ে যেতো দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
ভারতীয় বোলাররা শুরুটা যত দুর্দান্ত করেছিলেন, ঠিক ততই বাজে হয়েছে তাদের ব্যাটিং। স্টেইন-মরকেল-ফিল্যান্ডার-রাবাদাদের নিয়ে গড়া দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ফাস্ট বোলিং আক্রমণ দ্রæত ৩ উইকেট নিয়ে বার্তা দিয়ে রেখেছেন, দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের তারা আরও জ্বালাবেন!

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম দিন শেষে)
দ.আফ্রিকা ১ম ইনিংস : ৭১.৩ ওভারে ২৮৬ (ভিলিয়ার্স ৬৫, ডু প্লেসি ৬২, ডি কক ৪৩, ফিল্যান্ডার ২৩, মাহারাজ ৩৫, রাবাদা ২৬, স্টেইন ১৬*; ভুবনেশ্বর ৪/৮৭, সামি ১/৪৭, বুমরাহ ১/৭৩, পান্ডিয়া ১/৫৩, অশ্বিন ২/২১)।
ভারত ১ম ইনিংস : ১১ ওভারে ২৮/৩ (বিজয় ১, ধাওয়ান ১৬, পুজারা ৫*, কোহলি ৫, রোহিত ০*; ফিল্যান্ডার ১/১৩, স্টেইন ১/১৩, মরকেল ১/০)।