কোনাখালীতে আ’লীগ নেতার উপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি

প্রকাশিত

পেকুয়া-কুতুবদিয়া(কক্সবাজার)-
কক্সবাজারের চকরিয়ার কোনাখালীতে আ’লীগ নেতা মোস্তাক আহমদের পরিবারের উপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা অব্যাহত রাখায় সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পুত্ররা। নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন। গতকাল কোনাখালী বাজার পাড়াস্থ মোস্তাক আহমদের পুত্র বদিউল আলমের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তার পুত্ররা বলেন, পিতা মোস্তাক আহমদ ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দু’বার সভাপতি, দুই বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। পশ্চিম কোনাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এলাকার সাধারণ জনগণের আপনজন হিসাবে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছেন। শত বাঁধা বিপত্তিতেও মুজিব আদর্শ থেকে সরে যাননি। তিনি এখন গুরুতর অসুস্থ। আমরা তার ১০ পুত্র ও ৫ কন্যা রয়েছি। ভাই বোন সবাই পিতার মত মুজিব আদর্শের বিশ্বাস ধারণ করে চলছি। নৌকার জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। আমাদের এ পরিবারকে ধ্বংস করতে এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্য মো: হোছাইন ও তার অনুগত লোকজন নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িত করে ঘর ছাড়া করার পাশাপাশি লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সাধন করছে। বর্তমানে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের আত্বীয় স্বজন দিয়ে ইয়াবা, অস্ত্র মামলায় মিথ্যাভাবে জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ পত্রের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে আমরা মোস্তাক আহমদের পুত্র মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক, মুদি ব্যবসায়ী বদিউল আলম, চট্টগ্রামে চাকরিরত আবু তৈয়ব, বাংলা বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মিজবাহ উদ্দিন, মুদি ব্যবসায়ী সালা উদ্দিন, মাছ ব্যবসায়ী, কুলিং কর্ণার ব্যবসায়ী আলা উদ্দিন, চট্টগ্রামে চাকরিরত আলমগীর, চায়ের দোকানী আজম খান, চট্টগ্রামে চাকরিরত নুর মুহাম্মদ বলতে চাই, বিগত সময়ে আমাদেরকে অনেক মিথ্যাভাবে মামলায় আসামী করা হয়েছে। কোনাখালী ছড়াপাড়ার একটি মামলায় বদ্য মোজাম্মেল নামের এক ব্যক্তি আসামী হলেও আমাদের ভাই মোজাম্মেলকে আটক করে পুলিশে দেয় চক্রান্তকারীরা। তিনি দুই বছর জেল কাটেন, রাইজা বেগম নামের একটি হত্যা মামলায় আলাউদ্দিনকে এজাহারভুক্ত, হাফেজ মিজবাহকে কুচক্রিমহলের ইন্ধনে মসজিদ থেকে আটক করে মামলায় জড়িত করে। বর্তমানে দরখাস্ত করে বদিউল আলমকে আসামী করার পায়তারা করছে। আর বোন জুলফিকার আরাকে মারধর করে আহত করেছে তার লোকজন।
বিএনপি-জামায়াতের ১৫২/১৩, ১০০/১৩ মামলায় জড়িত করে হয়রানি করে। ৫৬৭/১৪ গুলিবর্ষনের ঘটনায় আমাদের আসামী করে হয়রানি করেছে। সর্বশেষ আনোয়ার হোছেন ছুটু মিয়াকে দিয়ে ইউপি সদস্য মো: হোছেন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় দায়ের করেন। আমরা মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় ও হুমকি থেকে পরিত্রাণ চাই।
আমরা আ’লীগ পরিবার হলেও বিভিন্ন সময় আমাদেরকে জামায়াত-বিএনপি সাজিয়ে মামলা দিয়েছে তারা। আ’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের কোন পদে অথবা কর্মীতে অর্ন্তভুক্ত করতে দেননা ইউপি সদস্য মো: হোছেন। এমনকি আমার পিতা দীর্ঘ বছর আ’লীগ করলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের ঈদ উপহার ও আ’লীগ কর্মীদের দেওয়া উপহারও পাননি। আমরা না হয় পেলাম না। বৃদ্ধ পিতাতো পাওয়া যোগ্য। এ বিষয়ে আমরা জেলা আ’লীগ ও চকরিয়া উপজেলা আ’লীগ নেতা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সর্বশেষ আমাদের পৈত্রিক জমি জবর দখল করার জন্য ইউপি সদস্যের ভাই ইয়াসিন আলী চক্রান্ত শুরু করেছে। অথচ ইউপি সদস্য মো: হোছেন আমাদের পিতার বিরুদ্ধে দুইবার ভোট করে হেরে যান। বিগত নির্বাচনে বদিউল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় চক্রান্ত আরো বেশি জুরালো করেছে। আমরা ইউপি সদস্য মো: হোছেন, মিজবাহ উদ্দিন পেজু, আরমান আরা দিলু, মো: ইয়াসিন, শওকত, আনোয়ার হোছেন, বাবুল ও কাইছারসহ আরো বেশ কয়েকজনের অত্যাচারে অতিষ্ট। এ বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ, আ’লীগ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।