ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাণ : এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিবেদক: এস এম ই ফাউন্ডেশন-এর সািির্বক ব্যবস্থাপনায় নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নতুন ভবন প্রাঙ্গনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৭দিন ব্যাপী এসএমই পণ্য মেলা গত ২২ জানুয়ারি সোমবার সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অতিরিক্ত সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ^াস।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা যে সকল পণ্য উৎপাদন করেন তারা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তথা উন্নয়নের প্রাণ। পাকিস্তান আমলে আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। অনেকে মনে করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের জন্য সমস্যা। আসলে তা ঠিক নয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই আমাদের অর্থনীতি এতটা এগিয়ে গেছে। তারা সম্পৃক্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে। এই জনগোষ্ঠীই আজকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলছে। পাকিস্তান আমলে আমরা সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে যে অবস্থায় ছিলাম বর্তমান বাংলাদেশে অধিক জনসংখ্যা হয়েও অতীতের তুলনায় অনেক ভাল আছি। অনেক সুখে আছি আমরা।আর্থিক স্বাচ্ছন্দ,সাংস্কৃতিক দিক ও শিক্ষাদীক্ষা সহ সকল ক্ষেত্রে আমরা আগের তুলনায় অনেক ভাল আছি। গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের ছোঁয়া এতটাই লেগেছে যে, আমরা তা অবলোকন করলে অবাক হই। আজকে গ্রামে নোডলস্,কোল্ডড্রিংকস দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের জিনিস আজকে গ্রামে পাওয়া যায়। সাড়া গ্রামে রেডিও টেলিভিশন খোঁজে পাওয়া যেত না। এখন রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কারণে কেউ কাছের পথও পায়ে হেটে যায় না। সবাই রিক্সায়, অটোতে বা যানবাহনে চড়ে যায়। সকল ক্ষেত্রেই আজকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবদান বেশী। আগে পরিবারে একজন উপার্জন করতো সবাই তার উপর নির্ভরশীল ছিল। এখন পরিবারের সবাই কাজ করে । কাজ করার ক্ষেত্র আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে পৃথিবীতে ব্যাপক মন্দা দেখা দিয়েছিল।আমেরিকার মত দেশ,ইউরোপিয়ার অনেক দেশ বসে পড়ার অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশের এই মন্দায় পড়ে নাই।এর কারণ হলো আামাদের দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গতির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে কেউ এখন বেকার নেই।

নরসিংদীর এই পণ্যমেলা ঘুরে দেখলাম তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে আমার ভাল লাগলো। একজন উদ্যোক্তা বললেন তিনি ১০ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। এধরনের মেলার আয়োজন যে কতটা উপযোগী তা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে নরসিংদীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান একটা বিশাল ক্ষেত্র দখল করে আছে। দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় নরসিংদী জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পিছিয়ে নেই।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ্্এসএমই ফাউন্ডেশন-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, বলেন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নরসিংদীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি (নতুন) প্রাঙ্গনে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ৭ দিন ব্যাপী আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা শুরু হয়। তখন প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ^াস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার ও জেলা বিসিক এর এজিএম মোঃ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

এসএমই ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জেলার ঐতিহ্য, উন্নয়ন, সাহিত্য সংস্কৃতি, কৃষ্টি, তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছিল ৭ দিন ব্যাপি সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা প্রাঙ্গণে তথ্য প্রযুক্তি সহ ৯২ টি দপ্তর অংশগ্রহণ করে।

বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভাগ দেশী ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্লাব মেলায় অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। মেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সকল দপ্তর, গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ, সর্বস্তরের জনগণ ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, দেশী বিদেশী পর্যটক, বিনিয়োগকারী, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে মেলাকে সফল করে তুলে। এছাড়াও পণ্য মেলায় নরসিংদী জেলার ঐতিহ্য পর্যটন এবং সরকারের সকল দপ্তর ও সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সকল সাফল্য ও সচেতনমূলক সুস্পষ্ট চিত্র সকলের মাঝে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়।