খালেদা জিয়াকে বেশি দিন জেলে বন্দি রাখা যাবেনা : অলি আহমেদ

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচবছরের সশ্রম দণ্ড ও জেলে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এ ছাড়া তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রাখারও তীব্র সমালোচনা করেন এক সময়ের বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা। অলি আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে। সেখানে তাকে কয়েদিদের পোশাক পরানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি, এর সঙ্গে এরশাদ জড়িত আছে বলে আমি মনে করি। কারণ তিনিও নাজিমউদ্দীন রোডের জেলে এক সময় বন্দি ছিলেন। কেন সেখানে রাখা হলো? তাকে তো কাশিমপুর বা ঢাকায় নির্মিত নতুন কারাগারেও রাখা যেতো।’ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম এই নেতা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রায় দেওয়ার পেছনে কারণ ছিলো যেন শুক্র ও শনিবার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা যায়। তিনি বলেন, ‘এই রায় সরকারের পূর্বপরিকল্পিত। না হলে আকস্মিকভাবে রায়ের ১৫ দিন আগে কেন নাজিমউদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার সংস্কার করা হবে? বৃহস্পতিবার কেন রায় দেওয়া হবে? ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় কিভাবে ১০ দিনের ভেতর লেখা সম্ভব হলো?’ অলি আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোনও অর্থ তসরুফ করেননি। হয়তো কিছু নিয়মে ভুল ছিল, এর বাইরে কিছু না। দেশে বড় বড় দুর্নীতিবাজদের কোনও বিচার হচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে সরকার মহলের অনেকে। তাদের কোনও বিচার হচ্ছে না।’ খালেদা জিয়ার ডিভিশন প্রাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রীর জন্য কেন ডিভিশন চেয়ে আবেদন করতে হবে। এটি তো এমনিতেই পাওয়ার কথা।’ বিএনপির উদ্দেশে জোটের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি অতি দ্রুততার সঙ্গে আগামীকালই যেন হাইকোর্টে আপিল করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে। আমি বিচারপতিদের অনুরোধ জানাবো, ন্যায়বিচার করে তার মুক্তি নিশ্চিত করুন।’
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে অলি আহমদ বলেন, ‘কারও অনুপস্থিতিতে কোনও দল থেমে থাকে না। একজন গেলে আরেকজন তার জায়গা নেয়। আর খালেদা জিয়াকে বেশি দিন জেলে বন্দি রাখা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’