খালেদা জিয়া ‘জ্ঞানের অভাবে’ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন -প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবেই ‘পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেন, মানুষ পোড়ায়, তাদের হাতে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। জোড়াতালি দিয়ে বানানো এ সেতুতে কাউকে না উঠতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের কারণে তার মাথার ‘ঘিলু’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে যখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি, তখন খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেন যে ওই পদ্মাসেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে। কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। এখন যার এইটুকু জ্ঞান নেই, একটা জিনিস নির্মাণ করতে হলে কীভাবে, কী পদ্ধতিতে করতে হয়, যার মাথায় ওইটুকু ঘিলু নাই। ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের? চুরি করা, টাকা বানানো, এতিমের টাকা খাওয়া, মানুষ পোড়ানো, মানুষ মারা এটাই তো?
ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের এ উপদেশ দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন মাঠে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের? বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, এখন একটা সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে। হ্যাঁ, একদিকে ঠিক, যেহেতু একেকটি পার্টস (অংশ) তৈরি করে তারপর একেকটা করে বসায়।
শেখ হাসিনা বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) বুঝিয়ে দিয়েছেন ওনার কথার মধ্যে দিয়ে। নইলে যার মধ্যে এতটুকু সেন্স আছে, এতটুকু বুদ্ধি আছে বা যার এতটুকু জ্ঞানে আছে এবং সে যদি সজ্ঞানে থাকে নিশ্চয়ই এ কথা বলবে না।
খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দুই ছেলে দুই রত্ম। তারা মানিলন্ডারিং এ পারদর্শী। খালেদা জিয়া মানুষ পোড়ানোতে পারদর্শী। একটা ব্যাপারে তারা পারদর্শী, মানিলন্ডারিং করা। অলরেডি তারা, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে মানিলন্ডারিং। এটা আমরা বলছি না। মানিলন্ডারিং, এটা আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট সেখানে ধরা পড়েছে সে ঘুষ খেয়েছে, মানিলন্ডারিং করেছে। যার জন্য তার বিচারে সাজা হয়েছে ৭ বছর কারাদন্ড, ২০ কোটি টাকা জরিমানা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেক ছেলে, তার টাকা ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে। সেই টাকা আমরা ফেরত নিয়ে এসেছি। কাজেই তার দুই ছেলে রত্ম। তারা দুই কাজে পারদর্শী।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশে করে শেখ হাসিনা বলেন, উনিও কম যান না, এতিমের টাকা মেরে দিয়ে বেশ দিব্যি, সামান্য এতিম তাদের জন্য আনা পয়সা তাও মেরে দেয়। তারা দেশের মানুষকে কী দেবে।
এ সময় বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আর স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে ফিরিয়েছেন তিনি। এটাই তার বহুদলীয় গণতন্ত্র।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মন দিয়ে লেখাপড়া করার উপদেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, লেখাপড়ায় ভালো না হলে নেতৃত্বেও ভালো হওয়া যায় না। আমি বলব মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। খালি অঙ্ক আর উর্দুতে পাস করলে চলবে না। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য সব কিছুই পড়তে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় মনে রাখতে হবে, দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া কখনো নিজেকেও গড়ে তোলা যাবে না। দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না।
ছাত্রলীগের মূলনীতির কথা স্মরণ করিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ছাত্রলীগের যে মূল নীতি, সেই নীতি ধরে এগোতে হবে। শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার আলোকবর্তিতা হাতে নিয়ে শান্তির পথে প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তোমাদেরই। মনে রাখতে হবে লেখাপড়ায় যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে ভবিষ্যতে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে না।
ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাড়িতে গেলে আশপাশে কেউ যদি নিরক্ষর থাকে তাকে অন্তত অক্ষরজ্ঞান দেয়া, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়ির আশপাশে সেসকল নিরক্ষর ব্যক্তি আছে তাদের যেমন করেই হোক অক্ষর জ্ঞান দিতে হবে। যে লোকটি তোমার কাছ থেকে অক্ষর জ্ঞান শিখবে সে সারাজীবন তোমাকে মনে রাখবে।
শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি এই তিন মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ১৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে গঠিত সংগঠনটি সময়ের পরিক্রমায় পরিচিতি পায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হিসেবে।
নোয়াখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন
সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নোয়াখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
মেঘনা ও হাতিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩শ’ ২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩৪তম ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনেয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন।
৬ লেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন
দেশে প্রথমবারের মত নগরবাসীর গণপরিবহনের যাতায়াতের সুবিধার্থে ডিজিটাল ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল দুপুরে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বিআরটিসি কর্মকর্তা এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জাইকার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা যে ব্যবস্থা করেছি সেটা হচ্ছে র‌্যাপিড পাস। এরজন্য বাসে উঠে আর টাকা বের করতে হবে না। কার্ডটা থাকলেই হবে।
প্রথমবারের মত ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে এ দিন যাত্রা শুরু করা বিআরটিসির মতিঝিল টু নবীনগরগামী যাত্রীদের সঙ্গে এ সময় প্রধানমন্ত্রী মত বিনিময় করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক এবং জাপান সরকারের প্রতিনিধি মাসাতো ওয়াতানাবে এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফেনী শহরের মহিপালে দেশের প্রথম ও একমাত্র সিক্স লেনের ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।