গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন নিহত

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক 

ডেস্ক : গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে  ফিলিস্তিনিদের  বিক্ষোভে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর  গুলিতে অন্তত ১৭ জন নিহত ও কয়েকশ’ আহত হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ৪২তম ভুমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করে সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর  গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বা নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা থেকে ইসরায়েলের সীমান্তের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় সংঘর্ষ হয়।

ইসরায়েল দাবি করেছে, দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর তারা গুলি ছুড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, অন্তত ছয় জায়গায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছে এবং তারা দাঙ্গায় উস্কানিদাতাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।

এর আগে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচির শুরু হয় শুক্রবার। সীমান্তের কাছে পাঁচ স্থানে সমবেত হয়ে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমিতে ফেরার আকুতি জানায়। ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

এদিকে সীমান্তের কাছে হতাহতের ঘটনায় শনিবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিন সরকার। আল জাজিরা জানিয়েছে, বিক্ষোভে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একদিনের শোক ঘোষণা  করেছেন। তাই শনিবার সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ঘটনার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে’ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১ হাজার ৪শ’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাসও ছুড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনী সূত্রে বলা হয়েছে, গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের কাছে পাঁচ জায়গায় প্রায় সতের হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছে। তারা সেখানে গাড়ির টায়ার পোড়াচ্ছে এবং সীমান্তের প্রাচীরের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস সহিংসতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরায়েলের কাছে ছাড়বেন না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের কোন বিকল্প নেই এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার ছাড়া এ সংকটের কোন সমাধান নেই।

এদিকে কুয়েতের অনুরোধে নিউ ইয়র্কে  জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক বসে। কিন্তু তারা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হন। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গাজা সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সীমান্তের কাছে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নওয়ার্ট শুক্রবারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এক টুইট করেন এবং সেখানে উত্তেজনা কমাতে ব্যবস্থা নিতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে সব সময় ইসরায়েলের কড়া নিরাপত্তা প্রহরা  থাকে।  সেখানে ইসরায়েল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।  ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চ ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  ১৯৭৬ সালের এ দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়।

সে হিসেবে এবারও ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ শুরু করে। ছয় সপ্তাহব্যাপী তাদের এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে। এ দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা নাকবা বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালের  এ দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি-ঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর বহু দশক ধরে ইসরায়েলে তাদের ফেলে আসা বসত বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছে। কিন্তু ইসরায়েল তা মেনে নিচ্ছে না।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘যুদ্ধে জড়ানোর উস্কানি দিতেই’এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে কোনো সহিংসতার জন্য হামাস এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোই দায়ী হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।