গাজীপুরের চান্দনায় মাদ্রাসায় শিক্ষকের স্ত্রী ও ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার ভেতর থেকে এক শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী খুন হয়েছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে বাসন থানা পুলিশ।

নিহতরা হচ্ছেন, হুফফাজুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (২১) ও মাদ্রসার হিফজ বিভাগের ছাত্র মামুন (৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই বছর আগে মাদ্রাসাটি ওই এলাকায় স্থাপিত হয়। এর পরিচালক মাওলানা ইব্রাহিম খলিল নিজেই এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠিাতা। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মাদ্রাসার ভিতরে বসবাস করতেন। মাদ্রাটিতে ৩৫জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সোয়া চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে ওঠে পড়াশুনা করে। ফজরের আজান দিলে শিক্ষার্থীরা সবাই পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। সবার শেষে মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিল মাদ্রাসার বাইরে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে মসজিদে নামাজে যান। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মাদ্রাসার পরিচালকের ছোট ছেলে হুরাইয়াবা (২) মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে রক্তমাখা শরীর নিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে পথচারীরা শিশুটিকে রক্তাক্ত দেখে এগিয়ে যান। এসময় শিশুটি তাদের জানায় তার মাকে এবং মামুনকে মেরে ফেলেছে। তারা মাদ্রাসার ভিতরে গিয়ে জবাই করা দুটি রক্তাক্ত মরদেহ দেখে চিৎকার করতে থাকলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং নামাজ শেষে মসজিদ থেকে পরিচালক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে। খবর পেয়ে বাসন থানার পুলিশ, গাজীপুরের সিআইডি, পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশসদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কাজ শুরু করেন।
এ ব্যাপারে বাসন থানার ওসি মুক্তার হোসেন জানান, নিহত মাহমুদার গলায়, গালে ও কানে এবং মামুনের ঘাড়ে মাথায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাদ্রাসার ভিতর থেকে রক্তমাখা একটি দা, ধার দেয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের খন্ড উদ্ধার করা হয়েছে। কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে জোড়া খুনের খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিআইডি’র ক্রাইম সিন ও পিআইবির সদস্যরা এসেছে। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। আমি আশা করি খুব দ্রুত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে। কিছু সম্ভাবনা আমরা দেখতে পেয়েছি। ওই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তদন্ত কাজ করা হচ্ছে।