গাজীপুরের সৈকত হত্যা মামলার চিহ্নিত আসামী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুদ উরফে পুড়ি মাসুদ আটক!

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের টঙ্গীর সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যা মামলার চিহ্নিত আসামী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুদ উরফে পুড়ি মাসুদকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে টঙ্গীর দত্তপাড়ার দিঘিরপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুদ উরফে পুড়ি মাসুদকে। জানা যায় এসময় সৈকত হত্যা মামলার চিহ্নিত আসামী ও শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী সন্ত্রাসী মাসুদ উরফে পুড়ি মাসুদ পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান এর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে সে ব্যর্থ হয়।

জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর মুক্তারবাড়ি এলাকায় সৈকত হোসেন শাওন (২৪) কে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। ১৩ই অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৈকত হোসেন শাওন (২৪)  উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ী এলাকার মোঃ কবির হোসেন ও মোছাঃ সেলিনা বেগম এর ছেলে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের কারনে সৈকত হোসেন তার নানা আঃ রাজ্জাকের কাছে লালিত পালিত হয়।

এছাড়াও তার বন্ধুরা জানায়, এরশাদ নগর এলাকার পুড়ি মাসুদ, বুক কাটা বাবু, ইমরান, খাইরুল সহ আরোও অজ্ঞাত কয়েক জনের সাথে তার বন্ধু আমজাদ কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিলো। এছাড়া ঘটনা স্থলে থাকা নাহিদ মুঠোফোনে প্রথমিক ভাবে সুমন ও আকাশের উপস্থিত ও ঘটনার বিবরণ জানান। তবে সেও পালিয়ে যায়।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, রিয়াজ আহম্মেদ আকাশ পিতাঃ সাহেব আলী , মাসুদ ( পুড়ি মাসুদ ), আল- আমিন ( চিকন / কঙ্কাল আলামিন) পিতাঃ কাজল বাদশা, পুলিশের সোরস ইমরান, বুক কাটা বাবু এরা আগে থেকেই সৈকত হোসেন শাওনকে মারার হুমকি ও দিয়েছিলো। ইতি মধ্যে আল-আমিনের পরিবার থেকে নানা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

জানা যায়, আসামীদের বিভিন্ন সময় এরশাদ নগর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বিশেষ করে সৈকত হোসেন শাওন হত্যা কান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম আসামী রিয়াজ আহমেদ আকাশ দেশ ত্যাগের ব্যাপারে পায়তারা করছে।

আরো জানা যায়, সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যার অন্যতম আসামি মাসুদ (পুড়ি মাসুদ ) এর কথা বা ইশারা ছাড়া নাকি এরশাদ নগর, দত্তপাড়া ও আউচপাড়া এলাকায় কোন অপরাধ মুলক কাজ হয় না …

এ বিষয়ে নিহত সৈকত হোসেন শাওন এর বাবা মোঃ কবির হোসেন বাদি হয়ে মোঃ সুমন সরকার (ডিস সুমন-২৪), মাসুদ ( পুড়ি মাসুদ-৩২), নাহিদ(২২), হোসেন (২৩), সোহান (২২), সুমন (ছোট সুমন-১৯), আকাশ ( রিয়াজ আহমেদ আকাশ-২৩), আজাহারুল ইসলাম খান (স্বপন-৩৫), বাবু (বুক কাটা বাবু-২৮) সহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামী করে টঙ্গী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। টঙ্গী মডেল থানার ওসি মোঃ ফিরোজ তালুকদার এবং এ মামলার এস আই আশরাফুল এর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে এত দ্রুত আসামিদের তথ্য বের করা সম্ভব হয়েছে এবং এরই মধ্যে এ মামলার ২ জন অন্যতম আসামী ছোট সুমন ও বুক কাটা বাবুকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান।

এ ব্যাপারে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান জানান, এর আগে এ মামলার আরো দুই জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে তবে মাসুদ উরফে পুড়ি মাসুদকে গ্রেফতার করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে।  শীর্ষ এ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন মামলা ও অসখ্য অভিযোগ রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সকল আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

টঙ্গী মডেল থানা। মামলা নংঃ ৩৪/৬৭৯…