গাজীপুরে এস,আই, জহুরুল ইসলামের কারিশমা!

প্রকাশিত

ডেস্ক- প্রায়ই সাদা পোশাকে সোর্স নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান এসআই। দিনে চারটা অভিযান করলে চারটাতেই সফল। কিন্তু থানায় আসামি আসে মাত্র এক অভিযানের। বাকি তিন অভিযানের আসামি রাস্তা থেকে ছেড়ে দেন এসআই।

অনেক সময় মাদকসহ গ্রেফতারের পরও সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে চালান দেন। এই সবই গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলামের কারিশমা।

গত শুক্রবার (৩১ আগস্ট) এমনই এক ঘটনার জন্ম দেন এসআই জহুরুল। বেলা ১১টার দিকে এসআই জহুরুল ইসলাম এক আনসার সদস্যকে নিয়ে সাদা পোশাকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ভাদার্ত্তী এলাকায় অভিযান চালান।

এ সময় ভাদার্ত্তী পুরাতন এসআর অফিস এলাকায় একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালান এসআই। ওই অটোরিকশা থেকে অনিক নামের এক মাদক কারবারি ও সুজন নামের এক অটোরিকশা চালককে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা মাদক স্থানীয়দের সামনে উন্মুক্ত না করায় ইয়াবার সংখ্যা ও গাঁজার পরিমাণ বলতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মাদক কারবারি ও অটোরিকশা চালককে গ্রেফতারের একদিন পর শনিবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্দেহভাজন হিসেবে (৩৪ ধারায়) গাজীপুর আদালতে পাঠান ওই এসআই।

গ্রেফতার অনিক উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বোয়ালি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে ও সুজন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার টেকপাড়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার ওই সড়কে একটি অটোরিকশার গতিরোধ করেন এসআই জহুরুল।

এ সময় তার মোটরসাইকেলে একজন আনসার সদস্য থাকলেও মুহূর্তেই তার সঙ্গী হিসেবে যোগ দেয় ভাদার্ত্তী গ্রামের একাধিক মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনসহ অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক।

এ সময় এসআইয়ের সামনে অটোরিকশার যাত্রী ও চালককে মারধর শুরু করে তারা। মাদক কারবারি ও অটোরিকশা চালককে কিল-ঘুুষি, চড়-থাপ্পড় মারলেও বাধা দেননি এসআই জহুরুল।

স্থানীয়রা জানায়, মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন একাধিক মামলার আসামি হলেও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় এলাকায় খুব দাপটের সঙ্গে চলে। নিজেকে থানার লোক পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটায়। তার বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ মিথ্যা মামলা ও পুলিশের ভয়ে কিছুই বলে না।

এ ব্যাপারে থানায় গিয়ে এসআই জহুরুল ইসলামকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও কেটে দেন তিনি। বিকেলে ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে কোনো উত্তর দেননি এসআই জহুরুল।

এসআই জহুরুলের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আবুবকর মিয়াকে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

তবে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।