গাজীপুরে পেট্রোল ঢেলে আরিফ হত্যার শীর্ষ আসামী, মোফাজ্জল সরকার পাবনা থেকে গ্রেফতার

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ে বাকবিতণ্ডায় মুদি দোকানীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যার শীর্ষ আসামী মোফাজ্জল সরকারকে, পাবনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।

উল্লেখ্য- গত ২২ জুলাই বৃহস্পতিবার ,রাত ৮টার টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি মোড়ে, শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল সরকার, ভাই ভাই ট্রেডার্সে যান। গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বেশি চাওয়া হয়েছে এমন অভিযোগে দোকান মালিক মোজাম্মেলের সাথে তার বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ খবর পেয়ে তোফাজ্জলের ভাই মোফাজ্জল সরকার ও তাইজু সরকার দলবল নিয়ে এসে দোকানে হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় তারা মোটরসাইকেল থেকে পেট্রোল বের করে দোকানে এবং আরিফ, তার ভাই সাখাওয়াত ও সাখাওয়াতের সমুন্ধি রুবেলের শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুনে দ্বগ্ধ হন আরিফ, সাখাওয়াত এবং রুবেল। ঘটনার সময় দোকান মালিক মোজাম্মেল ও প্রতিবেশী সজিব তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকেও মারধর করে আহত করে।

এলাকাবাসী অগ্নিদ্বগ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় অগ্নিদ্বগ্ধ আরিফকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করে। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর সোমবার মধ্যরাতে আরিফ হোসেন মারা যান।

নিহতের নাম, আরিফ হোসেন (২৬)। তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয় খালি গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে।

আহত ও দ্বগ্ধরা হলেন, নিহতের বাবা জজ মিয়া, নিহতের দু’ভাই মোফাজ্জল হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিবেশী সজিব এবং রুবেল (সাখাওয়াতের সমুন্ধি)।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই তোফাজ্জল হোসেন শুক্রবার শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তেলিহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল সরকারসহ তার দু’ভাই মোফাজ্জল সরকার ও তাইজ উদ্দিন সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা একই গ্রাম তেলিহাটির ফালু সরকারের ছেলে। এছাড়াও মামলায় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মামলার সকল আসামিরা পলাতক রয়েছেন ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল সরকার বলেন, আমরা সবসময় ৯০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করি। সন্ধ্যায় আমি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার কেনার জন্য তেলিহাটি চৌরাস্তা যাওয়ার পর দোকান মালিক মোজাম্মেল আমার কাছে এক হাজার ৫০ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকান মালিক ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে। এ সময় তারা নিজেরা দোকানের মালামাল ভাংচুর করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে।