গাজীপুরে ভুল করে জাহাঙ্গীরের পক্ষে ভোটের প্রচারে খালেক, নওফেলরা

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ভোটের তিন দিন আগে বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সেখানে জাহাঙ্গীরের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার প্রচার প্রচারণা চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রচারে যাওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানতেন না। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও একই কথা বলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মতবিনিময় সভা শেষ না করেই ঢাকায় ফিরেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং দলের হয়ে প্রচারে যাওয়া এক শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী শনিবার মধ্যরাত থেকে গাজীপুরে বহিরাগতদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে রবিবার সকালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা গাজীপুর আসেন।
খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র ও সাবেক এমপি তালুকদার আবদুল খালেক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের স্থগিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালান গাজীপুরে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন টঙ্গীর কলেজ গেইট এলাকায় এবং অপু উকিল পুবাইল এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন প্রকাশ্যে।
গতকাল রবিবার দুপুরে গাজীপুরের ছয়দানা এলাকায় জাহাঙ্গীরের বাসায় তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন নওফেল। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন এটা সংবাদ সম্মেলন নয় আপনাদের সাথে মতবিনিময় মাত্র। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে সংবাদ সম্মেলন শেষ না করেই মঞ্চ ত্যাগ কওে দ্রুত চলে যান তিনি।
নওফেলের সংবাদ সম্মেলনে একজন গণমাধ্যমকর্মী তার কাছে জানতে চান বহিরাগত হয়ে তিনি কেন গাজীপুরে এসেছেন।
জবাবে নওফেল বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আমি জানি না বা আমার জানা নেই। আপনারা কি সেটা দেখাতে পারবেন?
অপর একজন সাংবাদিক তখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা দেখান। নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার রাত ১২টার পর বহিরাগতরা সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এরপর নওফেল বলেন, আমি একটু আগেই ঢাকা থেকে এসেছি আপনাদের আমন্ত্রণে। আপনাদেও সাথে মতবিনিময় করতে। আমি এখানে প্রচারণা চালাতে আসিনি।
ওই গণমাধ্যমকর্মী বলেন, আমরা আপনাকে ডাকিনি আপনারাই তো আমাদের সংবাদ সম্মেলনের জন্য ডেকেছেন।
নওফেল বলেন, আমরা জানতাম, ২৪ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত আমি এখানে প্রচার চালাতে পারবো। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতাম না। আপনারা যেহেতু নজরে এনেছেন, এখন আর মতবিনিময় সভা হবে না।
এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। নওফেল চলে আসলেও কিছুক্ষণ পর আতিকুল ইসলামকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তবে সেখান থেকেও বহিরাগতরা সংবাদ সম্মেলন শেষ না করেই মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।
একই দিন সকালে খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক গাজীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। সঙ্গে ছিলেন জাহাঙ্গীর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এই আচরণবিধির বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিত বা চিঠি দিত, তাহলে আমরা পালন করতাম। আমি এধরনের কোন চিটি বা বিজ্ঞপি নির্বাচণ কমিশন থেকে পাইনি। আপনারা আমাকে জানিয়েছেন যখন তখন আমি নিজে নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলবো।
অবশ্য গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে গত ১২ জুন ২০১৮ ইং।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শুরু থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। পুলিশের গাড়ীতে কওে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। বার বার অভিযোগ করা সত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কিছুই বলছেন না। এই অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, এ নিয়ে তিনি সংশয়ে রয়েছেন।
##