গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ ! টঙ্গীতে গৃহবধূর রহস্যময় মৃত্যু

প্রকাশিত

মো. রফিকুল ইসলাম -গত কয়েকদিন যাবত সোস্যাল মিডিয়া, অনলাইন নিউজ প্রোর্টাল ও বিভিন্ন পত্রিকায় টঙ্গী পুর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় নিহত গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রুজাল  শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি ভালোভাবে জানতে আগ্রহ জাগে এবং নিহত গৃহবধূ সাথী ও তার মাদকাসক্ত স্বামীর বিষয়ে খোঁজ নিতেই একের পর এক চাঞ্চলকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পারি, গৃহবধূ সাথী মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন, এটি কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাসহ বহু শিরোনাম।
সংবাদ বিশ্লেষণে জানতে পারি, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া ওসমান গণি রোডে লুৎফর ও শহিদেও যৌথ মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সিরামিক ব্যবসায়ি মো আমীন সাহেবের মাদক ব্যবসায়ি ও মাদকসেবি পুত্রকে নেশামুক্ত করার লক্ষে নোয়াখালী জেলার লক্ষীপুর গ্রামের দিনমজুর মৃত আবুল কালামের মেয়ে গৃহবধূ সাথী (২৩)’র সাথে বিবাহ দেন। পিরবারের ধারণা ছিল বিবাহিত জীবন শুরু হলে তুষার হয়তো নেশা ছেড়ে দিবে। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, বিবাহের পর তুষারের মাদক ব্যবসা আরও কয়েকগুন বেড়ে যায়। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে প্রায় ঝসড়া বিবাদ হতো মাদকসেবি তুষার শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতো স্ত্রী সাথীকে। এক পর্যায়ে তুষারের বাবা আমীন সাহেব তুষারকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসেন। কিন্তু তুষারের কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম হয় একটি পুত্র সন্তানের। পুত্র সন্তানটির কথা ভেবে নির্যাতনের শিকার হয়ে পিতৃহারা গবীর ও বৃদ্ধ মায়ের কথা চিন্তা করে সংসার করতে থাকে সাথী। কিন্তু বিধিবাম, ১৬ এপ্রিল মাদকাসক্ত স্বামীয় নির্যাতনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সাথী নামের চির দুঃখী গৃহবধূ।
এবিষয়ে কথা হয় সাথী মায়ের সাথে ০১৮৭৭৯৪৬৩১২ নাম্বারে তিনি বলেন, আমার একই এলাকায় বাড়ী আমীন সাহেবের তারা অনেক ধনী মানুষ ঢাকায় থাকেন, তাই আমার যাদু (গৃহবধূ সাথী) সুখী হবে ভেবে বিয়ে দিয়ে ছিলাম কে জানতো মেয়ের লাশ হয়ে আমার ভুলে মাসুল দিবে। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরও বলেন, ১৬ এপ্রিল বেলা ১২ টার দিকে তুষারের পিতা আমীন সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বলেন সাথী সকাল ৯টা থেকে তার কক্ষে দরজা আটকিয়ে ভেতওে অবস্থান করছে তাকে অনেক ডাকাডাকি করা হলেও কোন সাড়া দিচ্ছে না তাই তারাতারি টঙ্গী আসতে বলেন, এবং একথাও বলেন যদি কিছু হয় তাহলে বলবো করোনায় মইরা গেছে। এখন কথা হচ্ছেÑ কি হয়েছে না জেনে কিভাবে বললো বলবো করোনায় মইরা গেছে। দ্বিতীয়ত আমি (সাথীর মা) তুষাদের বাসায় গিয়েতো দেখতে পেলা না যে দরজা ভেঙ্গে আমার যাদুর (সাথীর) লাশ বের করা হয়েছে। তাহলে কিভাবে বুঝব আমার মেয়েকে ফেওে ফেলা হয়নি। আমার মেয়ের বিয়ের কোন কাবিন নামা নেই আমি কিভাবে কি করবো? তাছাড়া তাদের অনেক টাকা আছে আমি স্বামীহারা গরীব বৃদ্ধ বিধবা মহিলা তাই তারা আমাকে ৪ লাখ টাকার ২টি চেক দিয়েছে এনসিসি ব্যাংকের এবং বলেছে মুখ খোললে আমার যাদুর (সাথী) লাশ পুলিশ নিয়ে কাটাকাটি করবে তাতে তো আর মেয়ে ফিরে আসবে না। তার চেয়ে ভালো চুপচাপ থাকতে। আমি আল্লাহ কাছে বিচার দিয়ে চলে এসেছি। (সাথীর মায়ের কথা ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত)।
এদিকে বিশস্ত একটি সূত্র জানায়, গৃহবধূ সাথী লাশ গোসল যে করিয়েছেন সেই মহিলাকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছেন মুখ বন্ধ রাখার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজনকে তিনি বলেছে গোসলের সময় তিনি সাথীর মাথায় তাজা রক্ষ দেখেছে এবং সাথীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও সাথীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। এখানে প্রশ্ন দাঁড়ায় তাহলে লাশের সুরতহাল করার জন্য যে এসআই এসেছিলেন তিনি কি দায়িত্ব পালন করেছেন? আর এমন একটি লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া কিভাবে দাফনের অনুমতি দিলেন টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
পরিশেষে মাননীয় পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয়েটি আমলে নিয়ে এর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে আর কোন সাথীকে মাদকাসক্ত তুষারদের হাতে প্রাণ দিতে হবে না।
-মো. রফিকুল ইসলাম
সংবাদকর্মী।