গাজীপুর সিটির সুষ্ঠু নির্বাচনে ইসির ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
প্রায় দেড়মাস পর ১৮ জুন সোমবার থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ জুন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা শহরের শহীদ বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দিন-রাত চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ।
নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সকল কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব বুধবার সকালে গাজীপুরে আসেন। তারা এ দিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের সঙ্গে। পরে তারা দুপুরে বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। গাজীপুরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) খুদরত-ই-খুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ২১ ও ২২ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রায় ৯ হাজার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা এবং ২৪ জুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০৩ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব প্রশিক্ষণ চলবে। জেলা শহরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হাইস্কুল, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হাইস্কুল, প্রগতি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়দেবপুর সরকারি গার্লস হাইস্কুল ও রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের হলরুমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রে ৪২৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা (এর ৫ শতাংশ রিজার্ভ), ২ হাজার ৭৬১টি ভোট কক্ষের জন্য ২ হাজার ৭৬১ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা (এর ৫ শতাংশ রিজার্ভ), প্রতিটি ভোট কক্ষে দুজন করে মোট ৫ হাজার ৫২২ জন পোলিং অফিসারসহ (এর ৫ শতাংশ রিজার্ভ) প্রায় ৯ হাজার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৬ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে যেসব কাজ শেষ হয়েছিল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর তার অধিকাংশ কার্যক্রম পুনরায় করতে হচ্ছে। যেমন ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চিঠি প্রদান, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনায় আচরণবিধি প্রতিপালনের চিঠি প্রদান, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগপত্র পুনরায় তৈরি করণ ইত্যাদি। এতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শ্রম ও ব্যয় বেড়ে গেছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানান, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো- চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ২৪৮০), চাপুলিয়া মফিজউদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় (ভোটার ২৫৫২), পশ্চিম জয়দেবপুরের মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার ২৫৬২), মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার ২৮২৭), রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-১৯২৭) এবং রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২০৭৭)। এ কেন্দ্রগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর ওই এলাকার ভোটারদের নিয়ে ইভিএমে ভোট গ্রহণের মহড়া দেয়া হবে।
এ ছাড়া গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র, কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার বসির উদ্দিন উদয়ন একাডেমি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৭জন এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন, ১৯টি সংরক্ষিত আসনে ৮৪ জন নারী কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এতে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬।
##