গৃহকর্ত্রী গরম পানিতে গৃহকর্মীর শরীর ঝলসে দিলেন

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদীতে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে মনি আক্তার (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর শরীর ঝলসে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এতে শিশুটির মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।

বুধবার রাতে রাসেল সরকার নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরলে সব মহলে হইচই পড়ে যায়। ভাইরাল হয় ঝলসে যাওয়া শিশুটির ছবি। ঘটনা জানাজানি হলে গাঢাকা দেয় ব্যাংক কর্মকর্তা হাসান সারোয়ার সোহেল ও তার স্ত্রী মাহামুদা ইয়াসমিন নাজমা। পরে বুধবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত ১৭ই জানুয়ারি রাতে শহরের টাউন হল এলাকায় নরসিংদী জনতা ব্যাংকে কর্মরত হাসান সারোয়ার সোহেলর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ঝলসে যাওয়া মনি আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার রিকশাচালক আবদুল আজিজের মেয়ে। সে পরিবারের সঙ্গে পৌর শহরের দাশপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, গত দেড় মাস আগে নরসিংদী জনতা ব্যাংকে কর্মরত হাসান সারোয়ার সোহেলের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় মনি আক্তার। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি রাতে বড় একটি পাত্রে গরম পানি ফুটাতে দেন গৃহকর্ত্রী নাজমা। আধাঘণ্টা পর পানি গরম হয়ে গেলে ফুটন্ত পানি চুলা থেকে নামাতে বলেন মনিকে। অনেক ভারি হওয়ায় মনি নামাতে না পেরে গৃহকর্ত্রী নাজমাকে নামাতে বলেন। এতে নাজমা মনির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বকাঝকা শুরু করার পরপরই জেদ করে মনির ওপর গরম পানি ঢেলে দেন। এতে মনির মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী গৃহকর্মীকে চিকিৎসা না করে লোক মারফত বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় আজিজের বাসার পার্শ্ববর্তী লোকজন খবর পেয়ে মনিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে মনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ দিন ধরে মনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মনিবার বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, পেটের দায়ে শিশু মেয়েটিকে কাজে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যে আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবে তা জানতাম না। আমার মেয়েটি প্রতি মুহূর্তে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আমি তাদের বিচার চাই। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের জোগান দিতে না পাড়ায় পোড়ার যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিটি মুহূর্তে ছটফট করছে মেয়েটির।

ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।