ঘুষ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য উদ্বেগের: রিজভী

প্রকাশিত

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নিতে’ শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির হৃদয়ের স্পন্দনকে’ থামিয়ে দেয়ার শামিল।

তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান নৈরাজ্যকর অমানিশার মধ্যে তার এই বক্তব্য দেশের জন্য আরো ভয়াবহ উদ্বেগ, ভয় ও বিপদের কারণ হতে পারে।’

শিক্ষা ভবনে রোববার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ভালো প্রতিবেদন জমা দেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনার ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায়, আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।’

অবশ্য পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মন্ত্রীর ‘খণ্ডিত’ বক্তব্য প্রচার হওয়ায় ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর যদি এই বক্তব্য হয়, তাহলে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা সততা, নৈতিকতার পাঠ কোথায় নেবে?’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তার (শিক্ষামন্ত্রী) বক্তব্যে এটাই ফুটে উঠছে যে, ছাত্রছাত্রীরা তোমরা নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ এবং ন্যায়বোধের বিবেকশাসিত উন্নত মানুষ হওয়ার বদলে তোমরা সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির পাঠ নিতে শেখো, তাহলেই তোমাদের সাফল্য আসবে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী চাইছেন ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞানদীপ্ত প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আদর্শ জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ না হয়ে দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলবাজি, দুর্বৃত্তপনা, ইভটিজিং, মাদকসহ লুটপাট করার অর্থবিত্তের কাছে নতি স্বীকার করতে শিখুক।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণিত হলো-বর্তমান সরকার আত্মস্বীকৃত চোর ও দুর্নীতিবাজ। এদেশে যে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসে মন্ত্রীর ব্যর্থতা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী নিজেদের লোকদেরকে প্রশ্ন কেনাবেচার সুযোগ করে দিয়েছেন সুকৌশলে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রিজভী বলেন, ‘মিডিয়ার বদৌলতে এই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা জড়িত তারা সরকারেরই মায়ামুগ্ধ ছাত্রলীগের সোনার সন্তানেরা। শিক্ষামন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে, তিনিই এসব কেলেঙ্কারির উৎসাহদাতা। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিকে মেধাহীন করতে চাইছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছেন।’

এদিকে, সরকারই চেয়েছে চালের দাম কিছুটা বাড়ুক-অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিনা ভোটের সরকারের অর্থমন্ত্রী অনেক সময় সত্য কথা প্রকাশ করে দেন। জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার যে তামাশা করে সেটি প্রমাণ করলেন অর্থমন্ত্রী। জনগণের টাকা লুটপাটে উৎসাহিত হয়ে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করতে দ্বিধা করছে না। একমাত্র কাণ্ডজ্ঞানহীন ভোটারবিহীন, বিবেকহীন, নির্দয়, নিষ্ঠুর শাসকরাই খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে আনন্দিত হয়, তামাশা করে।’

এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মীর সরাফত আলী সপু, আসাদুল করিম শাহীন, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply