ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে লণ্ডভণ্ড যশোর, ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর-

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যশোর। এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে যশোরে গাছ চাপায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শার্শা উপজেলায় তিনজন, চৌগাছা উপজেলায় দুইজন এবং বাঘারপাড়ায় তিনজন রয়েছেন। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

নিহতরা হলেন শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান আলীর স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০), জামতলা এলাকার আব্দুর গফুরের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) ও শার্শা সদরের মালোপাড়া এলাকার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস (৫৫), চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বুদোপুর গ্রামের সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি বেগম (৪৮)।

এদিকে ঝড়ে গাছ উপড়ে ও ডাল ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ায় যশোরের সঙ্গে খুলনা ও সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যশোর ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, বুধবার রাত থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ পড়ার খবর পেতে থাকি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বেশিরভাগ রাস্তার গাছ অপসারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলাতেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানিয়েছেন, আম্ফানের কারণে কী পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরূপন করা সম্ভব হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী হবে। এদিকে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, যশোর জেলায় ১১শ’ হেক্টর জামিতে পানের বরজ, চার হাজার সাতশ’ হেক্টর জমিতে আম ও লিচু এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি ক্ষেত রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এসব ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ চলছে।