ঘূর্ণিঝড় কখন সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়?

প্রকাশিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক-

২০২০ সালের ২০ মে তারিখে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ‘সুপার সাইক্লোন’-এ রূপ নেওয়া আম্ফানের আঘাতে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি বহু মানুষ। কক্সবাজার, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, খুলনাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছিল আম্ফান।

সেই ক্ষত শুকানোর আগেই বাংলাদেশের দিকে এবার এগিয়ে আসছে আরেক ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। এটিও ‘সুপার সাইক্লোন’-এ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুপার সাইক্লোন আসলে কী, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।

ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হলে তা ‘সুপার সাইক্লোন’-এ রূপ নেয়। উইপিডিয়ার তথ্যানুসারে, বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতে ঘূর্ণিঝড়কে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তাকে ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯-১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে হারিকেন গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বা ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়।

সুপার সাইক্লোনে বাতাসের তীব্রতা সর্বোচ্চ থাকে বলে এর আঘাতে মানুষহ পশু-প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা থাকে। ঘূর্ণিঝড় যদিও দুযোর্গ সৃষ্টি করে থাকে, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। পৃথিবীতে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে।