ঙ্গাইলের বাসাইল জামে মসজিদে প্রথম কাতারে বসবে অফিসার 

প্রকাশিত
খায়রুল খন্দকার টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের প্রথম কাতারে বসবেন অফিসাররা, অন্য কেউ বসতে পারবেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মসজিদে প্রবেশের দরজাসহ মসজিদের বিভিন্ন জায়গায় নোটিশ টি লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ এলাকায় সমালোচনা সৃষ্টি হলে নোটিশ তুলে নেওয়া হয়। তবে কেন এই নোটিশ টানানো হয়েছিল, তা নিয়ে মসজিদ কমিটি ও ইমাম একজন আরেকজন কে দায়ী করছেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়, ‘সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাসাইল উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক নামাজের জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত এবং জুমার নামাজ চিহ্নিত জায়গার বাহিরে পড়া যাবে না এবং জামাত দাঁড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত অফিসারগণের সম্মানে সামনের কাতারে না দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। জামাত  দাঁড়ানোর সময় সামনের চিহ্নিত খালি জায়গা পূরণ করে দাঁড়াবেন। মসজিদের বাহিরে/রাস্তায় মসজিদের কার্পেট বিছানো হবে না, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।’
এই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আল-আমিন।
ওই মসজিদে নিয়মিত মুসল্লি ফারুক আহমেদ জানান , আমি অনেক দিন ধরে ওই মসজিদে নামাজ আদায় করি । যখন ওই নোটিশটি দেখি তারপর থেকে আমি ওই মসজিদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি । ওটা অফিসারদের মসজিদ। ওখানে সাধারণ মানুষ নামাজ পড়তে পারবেনা।
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এ সংক্রান্ত নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজের আগে নোটিশটি পড়ে মুসল্লিদের জানিয়ে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি মসজিদ কমিটির। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক আমি শুধু সেটি বাস্তবায়ন করেছি।’
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, ‘মসজিদের ইমামকে যেভাবে বিষয়টি লিখতে বলা হয়েছিল, তিনি সেভাবে লেখেননি। এটা তার ভুলের কারণে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নামাজ আদায় করছিলেন। যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করেন এজন্য নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মসজিদের ইমাম আগ বাড়িয়ে অফিসারদের বিষয়টি লিখেছেন। সামনের কাতারে অফিসাররা বসবেন এটা আমি তাকে লিখতে বলিনি।’
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে জানতে পেয়ে নোটিশটি তুলে নেওয়া হয়েছে। আমার অনুমতি না নিয়ে কীভাবে নোটিশ দেওয়া হলো এ ব্যাপারে জানতে রবিবার (৫ জুলাই) জরুরি মিটিং আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে, মসজিদে গত কয়েকদিন ধরে মুসল্লিদের সামনের কাতার বাদ রেখে বসার জন্য বলে আসছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা জানান, এই মসজিদের সামনের কাতার থেকে মুসল্লিদের উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এর আগে।
বাসাইল উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মজিবর রহমান হেলালী বলেন, ‘মসজিদে যিনি আগে ঢুকবেন তিনিই প্রথম কাতারে বসবেন। মসজিদে কোনও বৈষম্য নেই। সবাই সমান। কাউকে উঠিয়ে দেওয়া যাবে না। অফিসাররা প্রথম কাতারে বসবেন, এটা হাদিস সম্মত না। মসজিদ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।