চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে উন্নত জাতের গাজর উৎপাদনে সফল কৃষকরা

প্রকাশিত

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের কৃষি প্রধান জনপদ মীরসরাই উপজেলা মৌসুমি সকল সবজি চাষে সর্বাধিক উপযোগি। কৃষি গবেষকগণের মতে মূলা জাতের উপযোগিতার পাশাপাশি আরো উন্নত গাজর চাষে ও সম্ভাব্যতা অনেক বেশি এই মীরসরাই উপজেলার মাটি। কিন্তু কৃষকদের মধ্যে প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছি আমরা। কৃষি পর্যবেক্ষকরা আরো মনে করেন মীরসরাইয়ের গাজর উৎপাদন দিয়ে পুরো চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ ও সম্ভব।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান স্বল্প সময় ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় সবজিটি আবাদে এইউপজেলার কৃষকদের মধ্যে উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তিনি। কারণ লাভজনক বলে অনেক জেলাতেই দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংস্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নওগা জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি গাজর আবাদ হয়েছে মান্দা উপজেলায়। এ উপজেলায় গাজর আবাদ হয়েছে প্রায় ২১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, তিন মাসের মধ্যেই গাজরের ফলন পাওয়া যায়। প্রথমে পাঁচ-ছয়টি চাষ দিয়ে জমির মাটি গুঁড়ো করে নিতে হয়। এরপর জৈব সার, পটাশ ও ইউরিয়া দিয়ে জমি প্রস্তুুত করে নিয়ে বীজ ছিটানো হয়। গাজরের তেমন একটা রোগবালাই নেই। বিঘাপ্রতি ফলন হয় সর্বোচ্চ ১৫০ মণ।
মান্দা উপজেলার কুশুম্বা গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘১০ বছর আগেও এখানকার কৃষকরা গাজর আবাদ করতেন না। প্রথমে সামান্য জমিতে আবাদ করে ভালো ফলন ও দাম পাই। এর পর থেকেই বাড়তে থাকে আবাদের পরিমাণ। সবজিটি আবাদে পরিশ্রম কম। খরচও তেমন নয়। এখন এ এলাকার কয়েকশ কৃষক গাজর আবাদ করছেন।’ একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে গাজরের আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকার মতো। জমি থেকে গাজর তুলতে শ্রমিককে টাকা দিতে হয় না। মজুরি হিসেবে তারা গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য পাতা নিয়ে যান। সেখানকার অপর কৃষক হাতেম আলী জানান, এবার তিনি আট বিঘা জমিতে গাজরের আবাদ করেছেন।
উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মণ। মণপ্রতি গাজরের দাম পেয়েছেন ৪০০-৫০০ টাকা। প্রথম দিকে প্রতি মণ ৬০০ টাকা দরেও বিক্রি করেছেন। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে গাজর চাষ করবেন।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন সুপারভাইজার নুরুল আলম বলেন মীরসরাই উপজেলায় ন্যুন্যতম ৫০ হেক্টর জমি গাজরের জন্য উপযোগি। এমন উপযোগি জমিগুলোর অধিকাংশই এখানে মৌসুমে ও অযথা পতিত থেকে যায়। আগামী মওসুমে এখানে প্রদশর্নির মাধ্যমে গাজর চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে। এতে করে এলাকার চাহিদা সহ পুরো চট্টগ্রামের চাহিদা ও পূরণ সম্ভব হবে।