চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুরে গাছ ভূপাতিত, আরও ক্ষতির আশংকা

প্রকাশিত
 চাঁদপুর প্রতিনিধি- চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের হাটপাড় গ্রামে ১৯৮৮ সালে নির্মিত হাটপাড় শহীদ সিদ্দিক স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন গাছ পুকুরে ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বিদ্যালয় লাগোয়া পুকুরের পাশ ঘেঁষে প্রায় ২০ টি গাছ রয়েছে।  অপরিকল্পিত ভাবে গাছগুলো রোপন করা হলেও যথার্থ পর্যবেক্ষণের অভাবে বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুর পাড় একটু একটু ভেঙ্গে যাচ্ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। পুকুরের ভেঙ্গে যাওয়া অংশের জন্য আজ বিদ্যালয়টি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যমান। যেকোনো সময় বড় দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যেতে পারে যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে।
বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ৩০ ফুট মাটি ধ্বসে পড়ার পর বাকি ১০০ ফুট ধ্বংসে যাওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তিনিও সময় মত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি । বরং তিনি বিদ্যালয়ের গাছ কাটার নির্দেশ দেন। গাছগুলো কাটা হলে গ্রীষ্মের খরতাপে কোমলমতি শিশুদের কষ্ট হবে বিধায় বিদ্যালয়ের সভাপতি তা কাটার পক্ষে নন বলে জানা যায়। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলা কারণে পুকুরে তলিয়ে যেতে পারে আরও গাছ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের বন্ধের দিনে গাছটি পুকুরে পড়ায় হয়তো কোন ক্ষতি হয় নি।  কিন্তু বিদ্যালয় খোলা অবস্থায় এমন দূর্ঘটনা হলে এর দায়ভার কে নিবে?
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি বিশাল পুকুর রয়েছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন গার্ড ওয়াল নির্মানের
ফলে বেঁচে যেতে পারে ২০ টি গাছ। নতুবা পরবর্তীকালে আরও গাছ পুকুরে পড়লে বিদ্যালয়টি মারাত্নক ঝুঁকিতে থাকবে। হয়তো বিদ্যালয়টি খোলা থাকলে ভবিষ্যতে শিশু মৃত্যুর খবরও আমরা পেতে পারি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের পুকুর পাড়ের ভাঙ্গন রোধের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে জানিয়েছি। তিনি বলেছিলেন ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ছুটির দিনে পাড়টি ধ্বসে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হয়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি বদরুদ্দোজা পাটোয়ারী বলেন, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ্ববর্তী পুকুর পাড়ে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হলেই আমরা আমাদের বিদ্যালয়টি বাঁচাতে পারবো। নতুবা গাছগুলো পুকুর পাড়ের দিকে ধ্বসে পড়লে আমাদের মূল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকিও থাকবে।  তাই অনতিবিলম্বে আমাদের বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে একটি গার্ড ওয়াল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে  আকুল আবেদন জানাচ্ছি।  আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়্যারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা আমাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন।