চালের দাম ৪০ টাকার মতো থাকা সহনীয়: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চালের দাম ৪০ টাকার মতো থাকা সহনীয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী সঠিকই বলেছেন, চালের দাম ৪০ টাকার মতোই থাকবে। আমারও মনে হয় ৪০ টাকার মতোই দাম থাকা উচিত।

নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নিরাপদ খাদ্যে ভরবো দেশ, সবাই মিলে গড়বো সোনার বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে এই প্রথমবারের মত দিবসটি সাড়ম্বরে পালনের আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা খাদ্য উৎপাদন করে তাদের স্বার্থও আমাদের দেখতে হয়। তারাও একটা বিরাট জনগোষ্ঠী। এই দেশটা শুধু কয়েকজন খাদ্য উৎপাদনকারীর দেশ নয়। এদেশের প্রতিটি লোক খাদ্য উৎপাদন করে এবং প্রতিটি লোক খাদ্য যেমন উৎপাদন করে তেমনি বাজার থেকে খাদ্য খরিদ করে। সুতারাং খাদ্যের দামটা আমাদের অবশ্যই একটু ভালভাবে পর্যাবেক্ষণ করতে হয়। সেই পর্যাবেক্ষনে বলা হচ্ছে ৪০ টাকার মতো দাম হলে সেটা হচ্ছে আমাদের জন্য সহনীয়। উৎপাদনকারী যারা তাদের জন্যও একটা গ্রহণযোগ্য মূল্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বলি যে, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কেউ কেউ বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেন, তাহলে কেন আটা বা গম আমদানি করেন। এটা একটা অনুধাবনের বিষয়। আমরা চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং প্রয়োজনের বেশি চাল রফতানি করতেও সক্ষম। আমরা প্রচুর ভুট্টা উৎপাদন করি। আটা হয়তো আমাদের কম। দেড় লক্ষ টনের বেশি গম আমরা উৎপাদন করতে পারি না। খাদ্যের বিভিন্ন সামগ্রী যদি আমরা গ্রহণ করি তাহলে সত্যিকারভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফুড শুধু চাল নয়, ফুড ভুট্টা, ফুড গম, ফুড মাছ, ফুড সবজি, ফুড ফল, ফুড ফাস্টফুড। একটা যখন যথাযথভাবে পাওয়া যায়না তখন আরেকটা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করা যায়। সেইখানে আমরা খাদ্যে সত্যিকারভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়া। এরই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসম্মত, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকার ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ প্রনয়ন করে। আইনটি ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়।

মিয়ানমার থেকে খাদ্য আনার সময় অনেকের প্রশ্নের সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে দয়া দাক্ষিণ্য নয় বরং নগদ অর্থের বিনিময়েই চাল আমদানি করেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এজন্য খাদ্য আমদানি করেছিলাম অস্বীকার করবো না। এটি কোনো লুকোছাপার ব্যাপার না। আমরা আমদানি করেছি, প্রকাশ্য দিবালোকে। আমাদের সেই আমদানি মূল্য পুরোটাই নিজেদের টাকা। কেউ আমাদের টাকা ধার দেয়নি। আমরা কারোর কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতি নি।’

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন অবস্থার সৃষ্টি করতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ যাতে উন্নত দেশের মত স্ট্রিট ফুড নিশ্চিতে গ্রহণ করতে পারে। আমার উৎপাদন থেকে শুরু করে, প্যাকেটজাত থেকে শুরু করে, প্রক্রিয়াজাত থেকে শুরু করে খাবার টেবিল পর্যন্ত মানুষ নিশ্চিন্তে যাতে খাবার খেতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘কেবল ব্যবসায়ীদের সচেতন হলে হবে না। ভেজাল এবং দুষণমুক্ত অবস্থার জন্য প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য একটা বাড়ির গৃহিনী বা গৃহকর্মী যারা তাদেরও সচেতন হতে হবে। একজন গৃহিনী যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে খাবার রান্না করে পরিবেশন করে তাহলে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। গৃহিনী বা গৃহকর্মী যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে, তারা যদি সচেতন না হয়, তারা যদি স্বাস্থ্য সম্মতভাবে কাজ না করে, তাহলে যতই ভেজালের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি না কেন, কোন অবস্থাতেই নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি সম্ভব হবে না।

কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা ছাড়াও সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় একযোগে দিবসটি পালিত হয়েছে। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত একটি র‌্যালির আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।