চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাসকে জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান।  

প্রকাশিত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি-
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস একজন কর্মপ্রিয় স্বপ্নবাজ মানুষ। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবর ২০১৮ সালে  চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক হয়ে যোগদান করেন। এর আগে  তিনি প্রাথমিক ও গনশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বদলী হয়ে আবার উপ-সচিব হিসেবে যোগদান করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক  শিক্ষা অধিদপ্তরে। তিনি চুয়াডাঙ্গাতে যোগদানের পরই জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। এবং সকল প্রকার জনদূর্ভোগমুলক কাজ করে তিনি মাত্র ১১ মাসে  জেলার সকল মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন।  জেলার সার্বিক উন্নয়ন কামী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব মানুষের পাশে দাড়ানোর অবলম্বন ছিলেন জেলা   প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস।  ধান কাটতে শ্রমিক সংকট ছুটে গেছেন কাস্তে হাতে মাঠে মানুষকে উদ্ধত করতে এবং ধানের ন্যায্য মুল্য দিয়ে ধানক্রয় করেছেন জেলার চারটি উপজেলা থেকে। তার উদ্যোগে দেশে প্রথম ভূমি উন্নয়ন কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রজারা অতি আনান্দের সাথে তাদের জমির কর আগ্রহী হয়ে পরিশোধ করে। সরকারী সকল দপ্তর থেকে ঘুষ দূর্নীতি বন্ধ করেছেন। সকলের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য মিডিয়া সেল প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ডিসি সাহিত্য মঞ্চ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানে ম্যুরাল স্থাপন করেন। যা অন্য জেলার জেলা প্রশাসকের জন্য অনুকরনীয়। তিনি মাত্র এগারো মাসে এত পরিমানে কাজ হাতে নিয়ে ছিলেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি শেখ হাসিনার অঙ্গীকার  প্রতিটা গ্রাম হবে শহর তার সেই স্বপ্নকেও বাস্তবায়ন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের একটি গ্রামকে শহরের সকল প্রকার  সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা একটি বৃদ্ধাশ্রম করেছেন। সাম্প্রতিক সারাদেশে ডেঙ্গুর মহামারি হওয়ার খবর শুনে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরন ও মশার জন্মস্থান ধংসসহ মশক নিধন অভিযান পরওচালনা করেন। এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করেন। যার কারনে হয়তো সারা দেশের চেয়ে  চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর প্রভাব কম।  তিনি চুয়াডাঙ্গাতে আরো দীর্ঘদিন থাকলে হয়তো এভাবে আরও উন্নয়ন সম্ভব হতো। কিন্তু এই প্রিয় মানুষটি চুয়াডাঙ্গার সকল মানুষের মনে সহজে জায়গা করে নিয়েছন। তার বিদায় হতবাক করেছে জেলাবাসীকে। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সম্মর্ধনা প্রদান করেন সবার প্রীয় জেলা প্রশাসকের জন্য । এবং মঙ্গলবার  জেলার সকল পেশাজীবি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদায় সম্মর্ধনা প্রদান করে।  মহৎ কাজের জন্যই হয়তো তাকে জেলার মানুষরা এভাবে ভালোবেসে বিদায় সম্মর্ধনা জানায়। জেলা প্রশাসকের বিদায় সেই খবর শুনে তার প্রিয় সাংবাদিক সংগঠন জেলা প্রেসক্লাবের   সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আয়োজন করেন সম্মার্ধনা দেওয়ার। সাংবাদিকরা যাকে সবসময় পাশে পেয়েছেন তাকে হয়তো করুন হৃদয়ে বিদায় প্রদান করতে । তার জন্যই হয়তো এই আয়োজন জেলা প্রেসক্লাব  চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা  জেলার সুযোগ্য ডিসি গোপাল চন্দ্র দাসকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রেসক্লাবের সকল নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জেলার সুযোগ্য কর্মবান্ধব ডিসিকে ফুল দিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইনডিপিনডেন্ট টেলিভিশন ও কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি
এ্যাড. মানিক আকবর, সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়যাত্রা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এ্যড. শরীফ উদ্দীন হাসু , সাধারন সম্পাদক যমুনা টিভি ও বার্তা সংস্থা ইএনবির  জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম ডালিম,  জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক   বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টোয়েন্টিফোর এর  জেলা প্রতিনিধি জামান আক্তার, জেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম,  সাবেক জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিটিভির জেলা প্রতিনিধি রাজন রাশেদ, জেলা প্রেসক্লাবের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিসান আহম্মেদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বার্তা টোয়েন্টিফোর এর জেলা প্রতিনিধি অনিক চক্রবর্তী, জেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য বাংলা টিভি ও বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মামুন মোল্লা, চ্যানেল এস এর জেলা প্রতিনিধি মিঠুন মাহমুদ। এসময় সাংবাদিকরা বিদায়ী জেলা  প্রশাসক ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের উত্তরোত্তর সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন। এবং বিদায়ী জেলা প্রশাসক জনাব গোপাল চন্দ্র দাস বলেন অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এজেলার মাটি ও মানুষ আমাকে বিমোহিত করেছে। এজন্য আমি ধন্য এবং চির কৃতজ্ঞ এজেলার মানুষের প্রতি। এবং আমি কাউকে কখনো ছোট করে দেখিনি বিধায় আমাকে এ জেলার মানুষ অতি আপন হিসেবে গ্রহন করেছে। এবং জেলার সকল সাংবাদিক সহ সকলপ্রকার পেশাজীবি মানুষের কল্যান কামনা করেছেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি।