চুয়াডাঙ্গার ৫০ হাজার গরু আসছে ঈদ বাজারে

প্রকাশিত

ঈদ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার হাজার ৫৬৫টি খামার মালিকের হাতে ৫০ হাজারটি গরু প্রস্তুত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে ঢাকার হাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বেশ কিছু গরু। অন্য খামার মালিকরা ঢাকায় গরু নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন চুয়াডাঙ্গার খামার মালিকরা।

কোরবানির জন্য চুয়াডাঙ্গার গরু কেনার জন্য এক মাস আগে থেকেই ঢাকার অনেক ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন হাটে অথবা সরাসরি খামার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবুল কালাম, মিনাজ আলী ও হাফিজ মিয়া জানান, তাঁরা প্রতিবছরই কোরবানি ঈদের সময় চুয়াডাঙ্গাসহ পাশের দু-একটি জেলা ঘুরে গরু কিনে থাকেন। তাঁদের মতে, এই এলাকায় ভালো জাতের গরু পাওয়া যায়। অনেক খামার ঘুরে দেখে-বুঝে গরু কেনার সুযোগ আছে। এখন বর্ষা মৌসুম। চুয়াডাঙ্গায় বন্যা কিংবা জলাবদ্ধতা নেই। এ জন্য গরু দেখায় কোনো দুর্ভোগে পড়তে হয় না।

চুয়াডাঙ্গার অন্যতম গরুর খামারের মালিক মো. হাজ্জাদ আলী জানান, ঢাকার বাজারে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলার গরুর চাহিদা বেশি। আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে এখানকার গুরুর মাংস সুস্বাদু, দেখতেও সুন্দর। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু মোটাতাজা করা হয়। অনেকের ধারণা, মোটাতাজা গরুর মাংস নিরাপদ নয়। এই ধারণা ভুল। এখন আধুনিক যে পদ্ধতি তাতে মোটাতাজা গরুর মাংসও নিরাপদ।

তিনি বলেন, ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করা না হলে দেশের খামার মালিকরা লাভবান হবেন। তা ছাড়া দেশে যা গরু আছে তাতে দেশীয় গরুতেই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ এইচ এম শামিমুজ্জামান বলেন, গত বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪০ হাজার গরু কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। এ বছর জেলায় কোরবানি দেওয়ার উপযোগী গরু আছে ৫০ হাজার। জেলার চাহিদা মেটানোর পরও খামার মালিকরা তাঁদের গরু জেলার বাইরে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন।