‘ছদ্ম ফ্যাসিজম’ সম্পাদকীয় লেখায় ক্ষিপ্ত হয় মুসলিম লীগ সরকার

প্রকাশিত

সম্পাদকীয়: ১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে প্রকাশিত পাকিস্তান অবজার্ভারবারে’র ‘ছদ্ম ফ্যাসিজম’ শীর্ষক একটি সম্পাদকীয়তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন আহমেদের তীব্র সমালোচনা করায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকার। এই সম্পাদকীয়টিতে খাজা নাজিমুদ্দিন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলা হয় ‘খাজা নাজিমুদ্দিন আহমেদ একজন অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ-এতে কোনো সন্দেহ নেই কিংবা এ কথা কেউ অস্বীকার করবে না। তবে তিনি অত্মীয় প্রীতির দোষে অত্যন্ত দুষ্ট। তিনি নিজের এমন সব আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য লম্বা দড়ি ছেড়ে দিয়েছেন-যারা কোনো ধরনের বিবেচনার যোগ্যই হতে পারে না। খাজা নাজিমুদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে লেখা এ সম্পাদকীয়টির বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের দৈনিক পত্রিকা ‘আজাদ’-এর সম্পাদক মওলানা আকরাম খাঁ সংবাদপত্রে দেয়া এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে বলেন, সরকার যদি ‘অবজার্ভারের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে-তাহলে মুসলিম সমাজ এর বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মুসলিম লীগের আরেক নেতা মওলানা দীন মুহাম্মদও পাকিস্তান অজর্ভারের সম্পাদকীয়টির নিন্দা জানিয়ে সংবাদপত্রে বিবৃতি প্রদান করেন। ‘পাকিস্তান অবজার্ভার’ পত্রিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির আন্দোলনের পক্ষে আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিল-এর মধ্যে আবার খাজা নাজিমুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করে সম্পাদকীয় লেখায় একে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রাদেশিক চিফ মিনিষ্টার নূরুল আমিন বিষয়টি নিয়ে তার কেবিনেটের তথ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন।
এদিকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারির সর্বাত্মক হরতাল ও ধর্মঘটের দিন প্রাদেশিক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের সামনে মিছিল করার প্রস্তুতি নিয়ে উত্তেজনা চলতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের শাখাসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলগুলোতে চলতে থাকে সমন্বিত প্রস্তুৃতি এবং ২১ ফেব্রুয়ারির হরতালের পক্ষে পোস্টার লেখার কাজ।