ছুটির টাকা দাবী করায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে-৪ পোষাক শ্রমিক অপহরণ ঘটনায় উত্তেজনা,আটক-৩

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় টিভোলি এ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ছুটির টাকা দাবী করায় মালিক পক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ৬ শ্রমিককে অপহরণ ও অন্য শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় গতকাল সকাল ৯টায় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, অতি:পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ শিল্প পুলিশ সুপার এবং টঙ্গী থানা অফির্সাস ইনচার্জ ঘটনাস্থল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় ৩ ঘন্টা পর অধহৃত ৪ শ্রমিককে উদ্ধার এবং অপহরণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ফ্যাক্টরীর জুট ব্যবসায়ী আজিজ ও সেলিমসহ এ্যাডমিন সঞ্জয়কে আটক করেন। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার।
শ্রমিকরা জানায়, ফ্যাক্টরী চালুর পর থেকে মালিক পক্ষ তাদের বাৎসরিক ছুটির টাকা দিচ্ছে না। এনিয়ে ঈদুল আজহার আগে মালিক পক্ষের সাথে একাধিকবার শ্রমিকদের বৈঠক হয়। পরে মালিক পক্ষ ছয় তলা ভবনের প্রতি তলা থেকে ২ জন শ্রমিক নেতার নাম তাদের দিতে বললে শ্রমিকরা তাদের নাম দেন এবং ঈদের ছুটির পর তাদের সাথে বসে বিষয়টি মিমাংশা করার আশ্বাস দেন মালিক পক্ষ। ঈদের ছুটির পর ওই ফ্যাক্টরীর মালিক পক্ষের একজন মোজাম্মেল হক এর নির্দেশে এ্যাডমিন অফিসার সঞ্জয়সহ ফ্যাক্টরীর সাথে জুট ব্যবসায় জড়িত স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নেতা ও তার সহযোগী জুট ব্যবসায়ী আজিজ, সেলিম গং মোবাইল ফোনে ফ্যাক্টরীর শ্রমিক রোমান, শামীম, মনির, শুক্কুর, সোহেল ও আরিফকে ছুটির টাকা সংক্রান্ত কোন প্রকার ঝামেলা না করতে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রর্দশন করতে থাকে। এঘটনার জের ধরেই গতকাল সকাল পৌনে টায় শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীতে প্রবেশকালে জুট ব্যবসায়ী আজিজ ও সেলিমসহ ৭/৮ জন মিলে রোমান, শামীম, মনির, শুক্কুরকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যায় এবং বাকিদেরও একই হাল করার হুমকি প্রদর্শণ করে। এঘটনায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ঈধহৃত ৪ জনকে উদ্ধারসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ফ্যাক্টরীর এ্যাডমিন অফিসারসহ ৩ জনকে আটক করে জি¹াসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।


এব্যাপারে ফ্যাক্টরী মালিক মামুন জানান, আমার ফ্যাক্টরীর ক্ষতি করার জন্য একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে। সেলিম ও আজিজকে আমরা চিনিনা। একদিকে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে কথায় কথায় আন্দোলন, অপরদিকে জুট ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের ফ্যাক্টরী মালিকদের রাস্তায় মাথা নিচু করে চলতে হয়। আমাদের ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকদের সাথে আমাদের সর্ম্পক ভালো কি মন্দ তা খোঁজ নিয়ে দেখুন। এঘটনায় মালিক মোজ্জাম্মেল হক ও এ্যাডমিন সঞ্জয়বাবুর সপৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজিমপুর ও আব্দুল্লাহ্পুর এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় ১ ঘন্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। পরে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়কের ওপর থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
##