ছুট্টি মিয়ার বিয়ে ll

প্রকাশিত

ছুট্টি মিয়ার বিয়ের জন্য এই পযন্ত কয়েকটা মেয়ে দেখলেন,সমস্যা অনেক ঘর খাটলে বর খাটেনা,বর খাটলে তো ঘর খাটেনা,ছুট্টি মিয়ার বেলায় ও হয়েছে তাই,মেয়ে দেখে আসলে মেয়ে খাটো নাহয় কালো, সুন্দর হলে নাক মোটা নাহয় চোখ বাকা,মেয়ে হইতে হবে যেমন লম্বা তেমনি সুন্দর একদম গ্রাম বাছা বলেন ছুট্টি মিয়ার বড় চাচা আবদুল হাই,বেটা বারি চালাক চুতুর গ্রামের হর্তা কর্তা,ছুট্টি মিয়ার বাবা ছত্তর মিয়া হাবা গোবা বলে পরিবারে ও এতোটা সম্মান পায়না,সব সময় নিজের প্রতি অহিনা প্রকাশ করেন উনি l গটক বাহার উদ্দীন এই পযন্ত আট দশটা মেয়ে দেখিয়েছে,বাহার উদ্দীন সিন্ধান্ত নিয়েছে এবারের জন্য শেষ পছন্দ হলে হলো না হলে নাই,আসসালামু আলাইকুম। ভাইছা ও ভাইছা l
চত্তর মিয়াঃ ওয়ালাইকুম সালাম, এসো বাহার l
বাহারঃ দেখেন ভাইছা ছুট্টি মিয়ার জন্য কয়টা মাইয়া দেখলাম ? এই শেষ বার শাহাপুর আলিয়া বাড়ির রজবের বড় মাইয়া,নাম শরীফা এই দেখেন ছবি নিয়া আসলাম হাহাহা l
চত্তর মিয়াঃ কইরে কই গেলা,বাহার তোর ভাবীরে দেখা,আমি গেলাম বরোই তলা জমিন পেটে ছ’ছির হয়ে আছে দেখি একটু পানি দিতে পারি কি না l
বাহারঃ ভাবী এ দেখেন দু’দিন আগের তুলা ছবি l
ছুট্টি মিয়ার মা আছিয়া খাতুনঃ মাইয়া ত লম্বা কম্বা আছে মনে হয়,কি জানি বাবু ছবিতে দেখতে এক রকম সামনে সামনি দেখলে আরেক রকম,এখনকার যুগের মাইয়া মুখে হেরা লাবলী তাবলী কত কিছু মুখে লাগায়,অছা অছা ডিসকু জুতা লাগাই চলে ছবি তবি দেখাই হইতনো বাবু মাইয়া দেখতে হইবো l
বাহারঃ কি যে বলেন ভাবী,আমি নিজে দেখেছি মাইয়া l
আছিয়া খাতুনঃ মাইয়া না দেখে l
বাহারঃ ভাবী মাইয়া দেখবেনা আমি কি না করলাম,আপনারা মাইয়া দেখতে কবে যাবেন বলেন আর কয়জন জাবেন l
আছিয়া খাতুনঃ আমার দেবর আর সুরমা, বলবেন চার পাঁচ জন হবে l
বাহারঃ ভাবী পান দেন মুখটা কেমন তিতা তিতা হয়ে আছে,আর দু’একশ যদি থাকে বুঝেন ত ভাবী সব কিছু মাঙ্গার জমনা এখান থেকে ঐ খানে যাইলে দশ টাকার বাড়া বিশ টাকা ,কি করবো সংসার চালানো মসবিত হয়ে গেলো,দেন দেন দেরি হয়ে গেলো আবার শাহাপুর যেতে হবে l
পরেদিন মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আবদুল হাই গলায় জোর লাগিয়ে কাশি দিয়ে জানান দিলেন আমরা এসে পড়েছি দরজা খুলেন বেয়াই l প্রথমে কোসল বিনময় তার পর..
বাহারঃ রজব ভাইছা বিতরে আবাজ দেন শরীফাকে নিয়ে আসতে,সালাম করে মুর্বিদের দোয়া নিতে l
এই দিকে ছুট্টি মিয়া লজ্জায় কাত হয়ে পড়লেন,বাড়ির অন্য পরিবারের মহিলা এবং ছোট বাচ্ছারা বাঁশের বেড়ার পাকে ছুট্টি মিয়াকে দেখছিল,যাই হোক প্রথম দিনের মত লজ্জা পায়না সে l
শরীফা লাল টুকটুর বেনারশি শাড়ী পড়ে নতুন বউ এর মত সেজে হাতে পানের বাসন নিয়ে এসে প্রথমে সালাম দিল এবং চাচা শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি পা ধরে কদমবুছি করলো l
ছুট্টি মিয়ার চোখাচোখি হতেই দু’জনে লজ্জায় লাল হয়ে যায় l
শরীফা সালামি ফেল দুই হাজারী দুটা নোট l
বাহারঃ শরীফা যা মা বিতরে চলে যাও l জ্বী ভাবী শরীফাকে কেমন লাগল ?
আছিয়া খাতুনঃ আলহামদুলিল্লাহ্ আমার পছন্দ হয়েছে l
বাহারঃ আলহামদুলিল্লাহ্ ছুট্টি মিয়া তোমার কিছু বলার আছে ?
ছুট্টি মিয়াঃ না l
আছিয়া খাতুনঃ সুরমা তোর ভাবীকে নিয়ে তাদের বাড়ি দেখে আয় l
আবদুল হাইঃ তাহলে আমরা লেন দেন নিয়ে আলোচনা করতে পারি ?
রজবঃ বেয়াই সাহেব আমার অবস্থা দেখতেছেন,কি বলবো আপনারা দয়া করবেন l
আবদুল হাইঃ এই ভাবে বললে ত বেয়াই চলবেনা,দশজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে,আমাদের ও ভাতিজা একটা সুন্দর করে ধুম দাম করে বিয়ে দিতে চাই l
রজবঃ তা কে না চায় বেয়াই ? কিন্তু থাকতে তো হবে l
এইসবের মধ্যে শরীফার ছোট চাচা রহমত আলি স্কুল থেকে আসল,তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সহকারি শিক্ষতা করেন,রজব আলি সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন l
রহমত আলিঃ বলেন বেয়াই আপনাদের দাবা দাবি কি ?
আবদুল হাইঃ না না ছোট বেয়াই এই ভাবে বলে আমাদের লজ্জা দিবেন না,আপনারা খুশি মনে যা কিছু দিবেন তা তো আপনাদের মেয়ের কাছে থাকবে,আপনাদের মেয়েকে সাজাই দিবেন সাথে দুই বরি স্বর্ণ দিবেন আর…খরছ বাবদ একলাখ টাকা দিবেন l
রহমত আলিঃ বেয়াই আমরা শরীফাকে এস এস সি পাস কিয়েছি কোরআন শিক্ষা দিয়েছি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আমার ভাতিজী,মাশাল্লাহ্ সব দিকে ঠিক আছে তার পরও যৌতুক ?
আবুল হাইঃ ছোট বেয়াই যৌতুক বলে লজ্জা দিবেন না,যা দিবেন আপনাদের মেয়ের সুখের জন্যই ত দিবে আর আসেন শিক্ষার কথা এস এস সি পাস এখন অহর অহর পড়ে আছে l
রহমত আলিঃ বেয়াই আপনাদের ছেলেকে কতটুকু পড়িয়েছেন ?
আবদুল হাইঃ হাহাহা…আমাদের ছুট্টি হালে পাস l
রহমত আলি ছুট্টি মিয়াকে উদ্যেশ করে বললঃ বলেন তো বাবা একটা মইতে কয়টা হাই থাকে ?
ছুট্টি মিয়া ভেবে ঠিক করতে পারলোনা একটা মইতে হাই কয়টা l
প্রশ্নের উত্তর না ফেয়ে ক্ষুগ্ধ রহমত মিয়া,দুই মিনিটে বাড়ির সিমানা পার হতে বললো l
……………………………………………………………………………………………………………………………..আসুন আমরা শিক্ষাকে ছোট করে না দেখে যৌতুকে না করি,যৌতুক দেওয়া নেওয়া সমান ভাবে অপরাধ,যৌতুকের বিরুদ্ধে রাষ্ট সমাজ পরিবার থেকে আনন্দলন গড়ে তুলি এবং যৌতুক অপরাধ হিসাবে ১৯৮০ সনের ৩৫ নং আইন দিয়ে যৌতুক নিরোধ করা সম্ভব নয় l এতে সাজা কথা বলা আছে পাঁচ থেকে সর্বনিম্ন সাজা এক বছর l এতো বড় অপরাধের এইটুকু সাজা হাস্যেকর মনে হয় l তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে যৌতুক নিরোধ বর্তমান আইনটি পরিবর্তন করে সর্বউচ্ছ সাজা মৃত্যু দণ্ড এবং ইসলামী সরিয়া আইন দেনমোহর বহাল রাখার দাবি জানাছি l যৌতুক আদান প্রদান সমান ভাবে অপরাধ lযৌতুকে না না না lll

Be the first to write a comment.

Leave a Reply