জগন্নাথপুরে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থীর লড়াই

প্রকাশিত

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ৫ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তাঁরা হলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র মিজানুর রশীদ ভূইয়া (আ.লীগ), সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেন (স্বতন্ত্র), হারুনুজ্জামান (বিএনপি), আমজদ আলী শফিক (স্বতন্ত্র) বিষ্ণু চন্দ্র রায় (স্বতন্ত্র)। এর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূইয়া ও আক্তার হোসেন। তাঁদের রয়েছে পারিবারিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ইমেজ। আছে বিশাল ভোট ব্যাংক। তাঁদের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। রয়েছে বিশাল জনবল শক্তি। যদিও অন্য প্রার্থী সবাই নতুন মুখ।
পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূইয়ার পিতা প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া ছিলেন সাবেক ৪ বারের ইউপি চেয়ারম্যান ও জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা আ.লীগের আমৃত্যু সভাপতি। তাঁরা আ.লীগ পরিবার হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরন মিয়ার প্রভাব পড়ে থাকে। এখনো অনেক মানুষ রয়েছেন হারুনুর রশীদ হিরন মিয়ার ভক্ত। এছাড়া হারুনুর রশীদ হিরন মিয়ার পুত্র মিজানুর রশীদ ভূইয়া সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও বর্তমান পৌর মেয়র। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার মাঝি মিজানুর রশীদ ভূইয়া নিঃসন্দেহে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে আ.লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় ও আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী, কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন মিজানুর রশীদ ভূইয়া।
এদিকে-পৌর এলাকার হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেনের সৎ বড় ভাই প্রয়াত আছাব আলী ছিলেন কয়েক বারের ইউপি চেয়ারম্যান। ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আমৃত্যু সভাপতি। নির্বাচনে প্রয়াত আছাব আলীর প্রভাব সব সময় থাকে। এখনো প্রয়াত আছাব আলীকে অনেক মানুষ ভালবাসেন। এছাড়া সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেনের নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। তিনি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পাবেন। তিনি গোপনে পেতে পারেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ভোট। আত্মীয়-স্বজন, কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আক্তার হোসেন।
শুধু তাই নয়, মিজানুর রশীদ ভূইয়া ও আক্তার হোসেন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি পরিবারের ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। সাবেক ৪ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের (বর্তমান জগন্নাথপুর পৌরসভা) সাবেক কয়েক বারের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া ও আছাব আলী। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশ হওয়া পর্যন্ত সর্বশেষ ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁরা পালাবদলে ছিলেন চেয়ারম্যান। ছিলেন তাঁরা সৎ সাহসী ও ন্যায় বিচারক। তাঁদের মধ্যে ছিল ভ্রাতৃত্ববোধ সুসম্পর্ক। বর্তমানে পালাবদলে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসুরি মিজানুর রশীদ ভূইয়া ও আক্তার হোসেন। তাঁরা তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। পারবারিক ঐতিহ্যকে লালন করে নিজেদের কর্ম তৎপরতা ও যোগ্যতায় জনসেবা করে যাচ্ছেন। ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জগন্নাথপুর পৌর এলাকার একাধিক প্রবীণ ভোটারদের সাথে আলাপকালে তাদের স্মৃতিচারণ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।