জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর : যা পেতে পারে বাংলাদেশ

প্রকাশিত

চ্যানেল সিক্স ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আজ সোমবার কক্সবাজার গিয়ে পৌঁছান জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা বলে মনে করেন শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হওয়া নির্যাতনকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে বিশ্বের কাছে বারবার তুলে ধরেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব, যা রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। জাতিসংঘের অনেক সদস্য দেশ, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা, এ সমস্যাকে বড় করে না দেখলেও বৈশ্বিক পরিসরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সমর্থন গড়ে ওঠাকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন সিদ্দিকী। সিদ্দিকীর মতে, এ সমর্থনের কারণে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যে কোনো পদক্ষেপ নিলে ওইসব বৈশ্বিক সংস্থা বা সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা পাবে।

তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, এবার সরেজমিনে দেখতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব যখন জানতে পারবেন প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের অবস্থান আসলে কী, তখন জাতিসংঘের সাথে বৈশ্বিক সহায়তা সংস্থাগুলোর একসঙ্গে কাজ করার অনেক বড় একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু জাতিসংঘের তত্ত্ব¡াবধানে রাখাইনে সংরক্ষিত ও নিরাপদ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে আগ্রহী। এ ছাড়া তারা চায় রাখাইনের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা যেন আগে প্রত্যাবাসিত হয়। পরবর্তী সময় বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় তারা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীনের মতো শক্তিশালী দেশকে পাশে না পাওয়ার কারণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মনে করেন সিদ্দিকী। তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বা চীনকে আমাদের সমর্থনে নিয়ে আসতে না পারা আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। এ কারণে এ বিষয়ে মানবিক দিক থেকে যে সহায়তা দেয়া দরকার, সেদিকে নিয়ে যেতে পেরেছে জাতিসংঘ, কিন্তু এর কোনো রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি। তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, কানাডা, ফ্রান্সের মত যেসব শক্তিশালী রাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে তাদের পাশাপাশি সেসব রাষ্ট্রের ভেতরের সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমর্থন পেতে কাজ করা উচিত বাংলাদেশের, যে ক্ষেত্রে বড় একটি ভূমিকা রাখতে পারে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই সংস্থাগুলো বাংলাদেশের পক্ষে যখন শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে তখন জাতিসংঘও নিজেদের ভূমিকাকে জোরদার করতে পারবে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনও এ ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে বলে মনে করেন তাসনিম সিদ্দিকী।

খবর বিবিসি বাংলা