জাতীয় পার্টির সুদিন সামনে : এরশাদ

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির নতুন করে জন্ম হয়েছে জানিয়ে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশের জনগণ এখন তার দলের দিকে তাকিয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রংপুরের মমিনপুর দিলরুবা শাহাদাত স্কুলে এক জনসভায় এসব কথা বলেন এরশাদ।

দেশের মানুষ এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন চায় দাবি করে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিই একমাত্র ভরসা দেশবাসীর জন্য। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাঁচতে চায়, জানতে চায়, শান্তিতে ঘুমাতে চায়। একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া কেউ নিরাপত্তা দিতে পারে না।’

রংপুর সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি নতুন জীবন পেয়েছে মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, ‘আমাদের সামনে সুদিন অপেক্ষা করছে। নিশ্চিত থাকেন, নিশ্চিন্ত থাকেন আমাদের সামনে সুদিন অপেক্ষা করছে।’

‘দেশের মানুষ বিএনপি চায় না, আওয়ামী লীগ চায় না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন চায় জাতীয় পার্টির মাধ্যমে। ’

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকলে দেশবাসী সুখে থাকে দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমার সময় খুন হয়নি, গুম হয়নি। মানুষ শান্তিতে ছিল, উন্নয়ন হয়েছে। যমুনা সেতু আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম তার বাস্তবায়নও করেছি। উপজেলা আমি করেছি, ওরা বন্ধ করে দিয়েছে। আবার চালু হয়েছে। জনগণের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা যায় না।’

‘আরেকবার ভালোবাসুন’ 

রংপুরবাসীকে আরেকবার ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের সমর্থন চেয়েছেন তিনি।

‘আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসেছি। আল্লাহ জানে কয়টা নির্বাচন করতে পারব’-এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, ‘আমাকে আর একবার সুযোগ দিয়েন যাতে আপনার পাশে থাকতে পারি আপনাদেও ঋণ শোধ করতে পারি।’

এরশাদ বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকবো রংপুরের মানুষের সাথে থাকব। অন্য জায়গায় নির্বাচন করব না। যতদিন বেঁচে থাকবো রংপুরের মানুষের এমপি থাকব। রংপুরের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না।’

রংপুরবাসীর ভালোবাসা না থাকলে ফাঁসিতে ঝুলতাম

রংপুরের মানুষের ভালোবাসা না থাকলে ফাঁসিতে ঝুলতে হতো বলেও মনে করেন এরশাদ।

১৯৯০ সালে গণ অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর গ্রেপ্তার হন এরশাদ। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে পুরোটা সময় তিনি ছিলেন কারাগারে। তবে বন্দী অবস্থাতেই রংপুরের পাঁচটি আসনে নির্বাচনে লড়াই করে জিতেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় আমার নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। তারা আমাকে বাঁচিয়েছে। তা না হলে হয়তো ফাঁসিতে ঝুলতে হতো।’

‘এই ঋণ জীবনে শোধ করতে পারব না। আপনার আমার জীবন বাঁচিয়েছেন এর প্রতিদান দেয়া সম্ভব নয়। যতদিন বেঁচে থাকব রংপুরের মানুষের সাথে বেঁচে থাকতে চাই।’
‘ঠাকুরপাড়ায় আতঙ্ক কেন’

রংপুরের ঠাকবুরপাড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে অসংখ্য পরিবার বাড়িতে ফিরতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন জাপা চেয়ারম্যান। বলেন, ‘আমার মন আজ ভালো নেই। আসার পথে মহিলা আমার গাড়ির সামনে এসে কান্না কাটি করছে, বলছে আমরা নিরপরাধ কিন্তু আমাদের বাড়ি ঘরে কেউ থাকতে পারে না।’

‘এটা কেমন কথা, সবাই কি অপরাধী? যারা অপরাধ করছে তাদের গ্রেপ্তার করেন, আদালতে নেন। কিন্তু যারা অপরাধ করেনি তাদের হয়রানি করবেন না।’

‘আমি কথা দিচ্ছি, প্রশাসনের সাথে কথা বলব, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সবাই ঘরে ফিরবে।’