জামালউদ্দিনকে সরিয়ে জনতা ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান

প্রকাশিত

অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির কারণে রাস্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটিকে উদ্ধারে সরকার নতুন নতুন চেয়ারম্যান দিলেও কোনো উন্নতি ঘটছে না। বরং কোনো কোনো চেয়ারম্যান নিজেই জড়িয়ে পড়ছেন ঋণ অনিয়মে। তবে সবাই মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন। এবার ১১ মাসের মাথায় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে জামালউদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। ওই পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এস এম মাহফুজুর রহমান বর্তমানে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য।

অর্থমন্ত্রণালয়নের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব জেহাদ উদ্দিন সাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে জামালউদ্দিন আহমেদকে অব্যাহতি ও এস এম মাহফুজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এস এম মাহফুজুর রহমান ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের(আইসিবি) চেয়ারম্যান ছিলেন।

জানা যায়, গত বছরের ২৮ আগষ্ট তিনবছরের জন্য জনতা ব্যাংক চেয়ারম্যান করা হয় জামালউদ্দিন আহমেদকে। পেশায় তিনি হিসাববিদ। পাশাপাশি অর্থনীতি সমিতির সাধারন সম্পাদক। ১১ মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাবে জামালউদ্দিন আহমেদ নিজেই পরিচালক হিসেবে ছিলেন। এ নিয়ে আপত্তি উঠলে তিনি পরিচালক পদ থেকে সরে আসেন। এরপর আরও গ্রাহকের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে উঠার খবর পাওয়া যায়। যা নিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তারাও বিরক্ত ছিলেন। শেষ পযর্ন্ত তাকে সরিয়ে দিল সরকার।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। ওই সময়েও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে।

জামালউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জানতে ফোনে চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায় নি।

গত মার্চ শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋন দাড়িয়েছে ১৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ২৭ শতাংশ। যা রাস্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্চ শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা।