জীবনযুদ্ধে হার না মানাদুই বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রী

প্রকাশিত

পত্নীতলা সংবাদদাতা: নওগাঁর পত্নীতলায় এসএসসি’তে এবার জীবন যুদ্ধে হার না মানা হতদরিদ্র পারিবারে দুই বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নজিপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের ২০১৮ ইং সালের পরীক্ষায় দুই বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছেন। জানা যায়, নানা বাঁধা উপেক্ষা করে ও জীবন যুদ্ধে হার না মানা হত দরিদ্র পারিবারে জন্মগ্রহণ করা ওই দুই স্কুল ছাত্রী মানবিক শাখার শিক্ষার্থী ছিলেন।

উপজেলার চকশ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার হাবিবা খাতুন। হাবিবার পরীক্ষার রোল নং ৫৩৯১২০। তাহার বাবার নাম আব্দুল হামিদ ও মাতার নাম মেরিনা বেগম। হাবিবার বাড়ি জেলার ধামইরহাট উপজেলার বড়থা গ্রামে। অপরদিকে, আরো এক বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রী উপজেলার গগনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখা থেকে পরীক্ষার্থী রিমি আক্তার। রিমির পরীক্ষার রোল নং ৫৩৯০৮৯। তাহার পিতার নাম তোজাম্মেল হক ও মাতার নাম মুক্তা বানু। রিমির বাড়ি উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। দুই বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রীর অভিভাকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারে জন্ম ও প্রাইভেট না পড়ে তারা পরীক্ষা দিচ্ছেন। এছাড়া তারা জন্মগত ভাবেই বাকপ্রতিবন্ধী। আপন বুদ্ধি ও মেধা শক্তিতে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের অভিভাকরা মলিন মুখে ও কান্না জড়িত ভাষায় এই প্রতিবেদককে আরো জানায়, তাদের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার ও বরইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হোসেন জানান, ওই বাকপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী আমাদের নজরে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পরও অতিরিক্ত অর্ধঘণ্টা সময় পাবেন। কিন্তু, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিবন্ধী তালিকায় অনুমোদিত কাগজপত্রাদি না থাকায় সেই সুযোগ হতে (অতিরিক্ত সময়) বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।