ঝিনাইদহে অপহরনের পর মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে আটক

প্রকাশিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গত তিন দিন আগে অপহরণকারী চক্র ওই যুবককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। পরিবারের লোকজন বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ কৌশলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোটিও পুলিশ এ সময় আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোটচাঁদপুরের বলূহর হ্যাচারি কমপ্লেক্স এলাকায়। কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা জানান, মহেশপুরের আলামপুর ৪ নং কলোনী এলাকার বিষু মিয়ার পুত্র লেবানন প্রবাসী সুজন আহম্মেদ (২০) ওই দিন রাতে ব্যক্তিগত কাজে কোটচাঁদপুর মেইন বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে কথা আছে বলে ডেকে গাড়িতে তুলে বাজারের একটি বাসায় নিয়ে আটকিয়ে রাখে। এরপর অপহরণকারীরা সুজনের আত্মীয় স্বজনদের ২০ (বিশ) লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাতেই স্বজনরা তারা ঘটনাটি কোটচাঁদপুর পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ি অপহরণকারীদের সাথে দর কষাকষি করতে থাকে। শেষ পযর্ন্ত ৫ লাখ টাকায় সুজনকে মুক্তি দেবে বলে রাজি হয়। কথা হয় বলুহর হ্যাচারিতে মুক্তিপণ বিনিময় হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ আগে থেকেই হ্যাচারিতে ফাঁদ পেতে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অপহরণকারীরা সুজনকে নিয়ে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোতে হ্যাচারিতে আসে। এসময় সুজনের আত্মীয় স্বজন সিনেমা স্টাইলে টাকার ব্যাগ নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সাথে সাথে ওঁৎ পেতে থাকা পুলিশ মাইক্রোটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাবার চেস্টা করে। এ সময় পুলিশ ওই চক্রের এক সদস্য শাহরিয়ার রহমান মামুন (৪৫)কে ধরে ফেলে। আটককৃত মামুন স্থানীয় কলেজ বাস স্ট্যান্ড এলাকার মৃত মশিয়ার রহমানের (মশি) ছেলে। পুলিশ এসময় মাইক্রো থেকে অপহৃত সুজনকে উদ্ধার করে। মাইক্রোটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সদস্য মামুনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।