টঙ্গীতে করোনা পরিস্থিতিতে দোকান ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে বেধড়ক মারধর

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিনিধি: টঙ্গীর কলেজ গেইট এলাকায় অরেঞ্জ নামক একটি কাপড়ের শোরুমের মালিককে দোকান ভাড়ার জন্য মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় অরেঞ্জ শোরুমের মালিক সাইফুল ইসলাম বিপুল টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অচিযোগ দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, অরেঞ্জ নামক কাপড়ের শোরুমের মালিক সাইফুল ইসলাম বিপুল প্রায় ৫ বছর যাবত কলেজ রোডের মুল্লুক মার্কেটে বেশ সুনামের সাথে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে। হটাৎকরে দোকানের জায়গা মালিকদের সঙ্গে কি হয়েছে তা আমাদের জানা নেই তবে মার্কেটের পিছনে থাকা মুল্লুক হোসেনের অফিস থেকে বিপুলের চিৎকার ও কান্না কাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মুল্লুকের সঙ্গে থাকা লোকজন বাধা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই অরেঞ্জ শোরুমের মালিক ও তার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসতে দেখ যায়। পরে বিপুল তার বন্ধুর সহযোগিতায় শহীদ আহসান উল্লাহ্‌ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।

এ ঘটনায় দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম বিপুল জানান, টঙ্গীর কলেজ রোড মল্লুক মার্কেটে দীর্ঘদিন যাবত ব্যাবসা করছি। আমি দোকানের মালিক মল্লুক হোসেনের ভাতিজা সুলতান উদ্দিন রাসেলের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়েছি। গতকাল সোমবার মার্কেটে আমার ভাড়া দোকানের মালিক রাসেল প্রতি মাসের ন্যায় ভাড়া নিতে আসলে আমি তাকে দোকান ভাড়ার বিশ হাজার টাকার মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা দেই এবং রাসেলকে বলি ভাই করোনা ভাইরাসের কারনে দোকানে তেমন বেচাকেনা নেই আপাদত পাঁচ হাজার টাকা রাখেন কয়েকদিনের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে দিবো। এতে দোকান মালিক রাসেল আমার কথা শুনে হিসাবের খাতায় সাক্ষর করে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। এর কিছু সময় যেতে না যেতে রাসেলের চাচা মুল্লুক আমার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর কিছু সময় যেতে না যেতেই মুল্লুক তার লোকজন দিয়ে খবর পাঠায় মার্কেটের পিছনে তার অফিসে যাওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর আমি আমার ভাইদের সাথে নিয়ে মুল্লুকের অফিসে কথা বলার জন্য যাই। এসময় ভাড়া কম দেওয়াতে মুল্লুক ও তার সাথে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে ও আমার ভাইকে  প্রচন্ড মারধর করে ও প্রাননাশের হুমকি দেয়। মুল্লুক আমাদের ব্যাবহারকৃত আইফোন ও স্যামসাংয়ের নতুন দুইটি মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলে। দোকানের মালিককে প্রতি মাসের ভাড়া পরিশোধ করেও দেওয়া হচ্ছে। দেশের করোনা পরিস্থিতে দুই মাসের ভাড়া আটকে যায়। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মার্কেটের পিছনে মার্কেটের মালিক মল্লুক হোসেন তার নিজ অফিসে আমাকে ধরে নিয়ে মারধর করে এবং অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও হাতে গুরুতর আঘাত করে।

মল্লুক মার্কেটের মালিক মল্লুক হোসেনের অফিসে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিস বন্ধ করে চলে যায়। পরবর্তীতে মুল্লুক হোসেনকে মুঠফোনে ঘটনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এবিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারবো পরে কথা বলবো।