টঙ্গীতে গায়েবী মামলা ! খালেদার মুক্তি দাবি করলো থানা ছাত্রলীগের সভাপতি

প্রকাশিত

প্রতিনিধি, টঙ্গী –
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম ও পূর্ব থানায় গায়েবী মামলার হিড়িক পড়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম থানা দুটি উদ্বোধনের পর থেকেই এলাকায় যাকে তাকে আটক এবং রহস্যজনক কারণে ছাড়ার বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দুপুরে বিএনপি-জামায়াতকর্মীদের স্থানীয় কলেজগেট এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার কথিত নাশকতার প্রস্তুতিকালে বেআইনী জনতাবদ্ধে লাঠি সোঠা, ইট-পাটকেল, ককটেল বোমা, পেট্রোল বোমা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অপরাধমূলক বল প্রয়োগ, পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধাদান ও আহত করার ঘটনায় ৫১জনকে এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ৫০-৬০জনকে আসামী করে পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই মো. নজমুল হুদা বাদী হয়ে মামলাটি (নং-০৫) দায়ের করেন। যাতে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হোসেন কানন মোল্লার নামও রয়েছে। এমামলার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বত্র চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

মামলার আসামীরা হলেন-বেলাল খান, আমিনুর রহমান মধু, প্রভাষক বশির উদ্দিন, সরাফত হোসেন, শুক্কুর আলী, জিএস স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মো. শরিফ মিয়া, মো. জসীম উদ্দিন, কাজী আবু তাহের, কাজী শাহিন, মো. মনির হোসেন ওরফে মনিরুজ্জামান, মো. আল আমিন, জুয়েল মিয়া, শেখ মোহাম্মদ আলেক, সানতার আলী, শাহ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইউনুস, সিদ্দিকুর রহমান বিএ, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. ইব্রাহিম মিয়া, খোকন, রিয়াজ উদ্দিন, সামসুল আরেফিন, ইমরান, মো. শাকিব শাহরিয়ার সোহাগ মিয়া, শেখ মো. হারুন-অর-রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা মো. মেহেদী হোসেন কানন মোল্লা, সেলিম হোসেন, টিপু, সোহেল, সোহেল-২, গিট্টু সফি, আবু সাকের, হাজী মুজিবুল হক দুলাল, সাইফুল খান, আব্দুস সাত্তার চৌধুরী, মো. মহি উদ্দিন, মো. এমাম, ইয়াকুব আলী, রব্বানী, মো. নুরে আলম দুলাল, আব্দুল হাই, লোকমান হোসেন, আতিকুর রহমান আতিক, শিপন খান, আলিম, ইব্রাহিম, আলম সরকার, লিটন ও শহিদ লস্কর। এদের মধ্যে অনেকের নাম এসেছে যারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
এদিকে গত ৬ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি নাশকতার মামলা (নং-১২) দায়ের করা হয়। যেখানে গ্রেফতারকৃত ৬জনসহ শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, নাজিম উদ্দিন সরকার ও সাহাজ উদ্দিনকে পলাতক আসামী দেখানো হয়েছে।
এব্যাপারে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী হোসেন কানন মোল্লা এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, আজীবন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত। শুধু আমি কেন আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বাবা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫১ ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে আন্দোলন করে পুলিশের কাজে বাধাপ্রদান করেছি-এমন আজগুবি কল্পকাহিনী বিশ্বাস করা যায়? টঙ্গী পশ্চিম থানা এসআই নজমুল হুদা এমন একটি মামলায় আমার নাম সম্পৃক্ত করে অজ্ঞতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আফজাল হোসাইন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুলিশ এখন কে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত করছে তা যাচাই বাছাই করার ধার ধারছেনা। যার নাম মুখে আসছে তাকেই গায়েবী ও আজগুবি মামলায় নাম ঠুকে দিচ্ছে। গত শনিবার কলেজগেট এলাকায় নাশকতা তো দুরে থাক। বিএনপি-জামায়াতের কোন নেতাকর্মীই রাস্তায় নামে নি। আর বিএনপি নেত্রীর মুক্তির দাবিতে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাশকতা করতে রাস্তায় নেমেছে একথা কেউ বিশ্বাস করবে? এতেই প্রমাণিত হয় পুলিশ এখন নাশকতার অভিযোগে যেসব মামলা করছে তা শুধু হয়রানিমূলক ও গায়েবী মামলা।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মাহাবুবুল আলম শুক্কুর বলেন, শনিবার বিএনপি-জামায়াতের কোন নেতাকর্মী কলেজগেট এলাকায় যায়নি। জীবনে একদিনও বিএনপির মিটিং মিছিলে যায়নি এমন নিরিহ ও খেটে খাওয়া মানুষের নামে পুলিশ সম্পূর্ণ সাজানো ও গায়েবী মামলা দিয়েছে। এমনকি ওই মামলায় থানা ছাত্রলীগ নেতার নামও দেয়া হয়েছে। যা উদ্ভট ও জনমনে হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে। এছাড়াও গত শুক্রবার টঙ্গী পূর্ব থানায় টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিএম শামীমকে গ্রেফতার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়াও নাশকতার অপর একটি মামলায় অহেতুক শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার, নাজিম উদ্দিন সরকার ও সাহাজ উদ্দিন, পিতা-অজ্ঞাতকে পলাতক আসামী করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত সাহাজ উদ্দিন যদি সাহাজ উদ্দিন সরকার হন তবে তিনি গত ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, মামলায় যে মেহেদী হোসেন কানন মোল্লার নাম এসেছে তিনি টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নন। এটা অন্যজন। কানন মোল্লার বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা মামলায় উল্লেখিত নাম ঠিকানা একই এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো ভুলে নামটি চলে গেছে। পরে সংশোধন করে মামলা নেয়া হয়েছে। তবে এসআই নজমুল টঙ্গী থানায় অনেক বছর কাজ করেছে এছাড়াও তার বাসা কলেজগেট এলাকায়। সে কিভাবে এ ভুলটি করেছে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।