টঙ্গীতে জলাবদ্ধতা চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী
গাজীপুরের সামান্য বৃষ্টি হলেই টঙ্গীসহ আশপাশের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও মিলকারখানা এমনকি টঙ্গী থানা, সরকারী হাসপাতালসহ স্থানীয় স্কুল কলেজ পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এ এলাকার নিত্যদিনের সমস্যা। অথচ স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এর সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমড় পানি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরা থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত পুরো সড়কেই থৈ থৈ পানি। ভোগান্তি পোহাতে হয় স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রী, অফিসগামী চাকুওে ও নারী পুরুষসহ বিভিন্ন পেশাজীবি এলাকার হাজার হাজার মানুষকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টঙ্গী এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতটাই শোচনীয় যে অনেকের বাড়িতে এখন রান্নারও সুযোগ নেই। ড্রেন, রাস্তাঘাট ও টয়লেট তলিয়ে যায়। ড্রেনের মলমূত্র ও নর্দমার ময়লাসহ বিভিন্ন আবর্জনা পানিতে মিশে এক অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী থানা, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী পাইলট স্কুল, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি সড়ক, দত্তপাড়া কফিল উদ্দিন সড়ক, লেদুমোল্লা সড়ক, টঙ্গী সরকারী কলেজসহ বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অনেক স্থানের কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে আছে। শ্রমজীবী মানুষেরা হাঁটুপানি ভেঙে তাদের গন্তব্যস্থলে ছুটছে। বিশেষভাবে দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, নারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন টঙ্গী অঞ্চলের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পর্যপ্ত পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এ এলাকায় সারা বছরই কমবেশি জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। এ অবস্থায় একটু বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা ডুবে যায়। কখনো কখনো পানি ফেঁপে মহাসড়কও উপচে পড়ে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের দৃশ্য

৫৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন এ ব্যপারে বলেন, সড়কের দু’পাশের পানির ড্রেন ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাসা বাড়ির পানি বেরিয়ে যেতে পারছে না। তাই মহাসড়কসহ টঙ্গী বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর রহমতে ২৬জুন সিটি নির্বাচনে এলাকার জনগন আমাকে জয়ী করলে এ সমস্যা থাকবে না । ৫৬নং ওয়ার্ড এলাকার ড্রেন গুলোকে মেরামত করে দেয়া হবে। যাতে পানি এক জায়গায় জমে না থাকে এবং সহজেই চলে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারন হচ্ছে ড্রেণে বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা। এই ময়লা আবর্জনার জন্য আজকে ড্রেনসহ রাস্থাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। জলবদ্ধতা নিরশনের আগে জনগনকে ড্রেনে আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনে লোকজন নিয়মিত ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে। তিনি আরো বলেন, মহাসড়কে চারলেনের কাছ চলছে এ করনে জলাবদ্ধতার সৃস্টি হচ্ছে। তবে আমাদের জলাবদ্ধতা নিরশনের কাজ অভ্যাহত। চার লেনের কাজ শেষ হলে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা নিরশন হবে বলে আশা করছি।
##