টঙ্গীর মুক্তারবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসী কতৃক নিহত সৈকত হোসেনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত

গাজীপুরের সৈকত হত্যা মামলার তদন্তে ধীর গতি, ১ বছরেও নেই মামলার অগগতি, প্রশাসন নিরব, কেন? প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চায় নিহতের পরিবার।

স্টাফ রিপোর্টারঃ আজ ১৩ই আক্টোবর,টঙ্গীর মুক্তারবাড়ী এলাকায় নিহত সৈকত হোসেনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। হঠাৎ করেই যেন থমকে যাচ্ছে গাজীপুরের টঙ্গীর সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যা মামলার অগ্রগতি। ১ বছরেও উদঘাটন হয়নি টঙ্গীর সৈকত হোসেন শাওন হত্যার রহস্য। এই মামলায় এই রিপোর্ট লিখা অবধি মোঃ সুমন (ছোট সুমন), বাবু (বুক কাটা বাবু), মাসুদ (পুড়ি মাসুদ)কে পুলিশ নানা স্থান থেকে গ্রেফতার করলেও এই পর্যন্ত মামলা প্রধান আসামী রিয়াজ আহম্মেদ আকাশ,সুমন(ডিস সুমন),নাহিদ সহ অন্যান্যরা থানা এলাকার বাহিরে থাকায় তাদের ধরতে বিলম্ব হচ্ছে টঙ্গী মডেল পুলিশের।

এমতাবস্থায় নিহতের পরিবার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

নিহতের মা সেলিনা বেগম জানায়, আমার ছেলের হত্যার মামলা দায়েরের কিছুদিন পরই টঙ্গী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদারের জায়গায় আসে ওসি মোঃ কামাল হোসেন, তাই আমি তার কাছে সবিনয়ে অনুরোধ করি যাতে করে তিনি এই হত্যা মামলার মুল রহস্য উৎঘাটনে নিজ হস্তক্কেপ করেন এবং আসামী ও তাদের পরিবারের সমন্ধে খোঁজখবর নেন। এই মামলার আসামীরা বহুদিন যাবৎ উক্ত এলাকায় বিভিন্ন প্রকার মাদক ব্যাবসা, চুরি, ছিনতাই ও চোরাই মোবাইলের ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত এদের বিরেদ্ধে আগে থেকেই থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এদেরকে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনলে আমি,আমরা ও এলাকাবাসী আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীর মুক্তারবাড়ি এলাকায় সৈকত হোসেন শাওন (২৪) কে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। ১৩ই অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৈকত হোসেন শাওন (২৪) উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ী এলাকার মোঃ কবির হোসেন ও মোছাঃ সেলিনা বেগম এর ছেলে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের কারনে সৈকত হোসেন তার নানা আঃ রাজ্জাকের কাছে লালিত পালিত হয়।

এছাড়াও তার বন্ধুরা জানায়, এরশাদ নগর এলাকার পুড়ি মাসুদ, বুক কাটা বাবু, পুলিশের সোর্স ইমরান, খাইরুল সহ আরোও অজ্ঞাত কয়েক জনের সাথে তার বন্ধু আমজাদ কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিলো। এছাড়া ঘটনা স্থলে থাকা নাহিদ মুঠোফোনে প্রথমিক ভাবে সুমন, আকাশে ও নিজের উপস্থিতি ও ঘটনার বিবরণ জানান। তবে সেও পালিয়ে যায়।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, রিয়াজ আহম্মেদ আকাশ, পুলিশের সোরস ইমরান, বুক কাটা বাবু এরা আগে থেকেই সৈকত হোসেন শাওনকে মারার হুমকি ও দিয়েছিলো। ইতি মধ্যে তাদের পরিবার থেকে নানা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

আরো জানা যায়, আসামীদের বিভিন্ন সময় এরশাদ নগর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।  সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যার অন্যতম আসামি মাসুদ (পুড়ি মাসুদ ) এর কথা বা ইশারা ছাড়া নাকি এরশাদ নগর, দত্তপাড়া ও আউচপাড়া এলাকায় কোন অপরাধ মুলক কাজ হয় না … এ বিষয়ে নিহত সৈকত হোসেন শাওন এর বাবা মোঃ কবির হোসেন বাদি হয়ে মোঃ সুমন সরকার (ডিস সুমন-২৪), মাসুদ (পুড়ি মাসুদ-৩২), নাহিদ(২২), হোসেন (২৩), সোহান (২২), সুমন (ছোট সুমন-১৯), আকাশ (রিয়াজ আহমেদ আকাশ-২৩), আজাহারুল ইসলাম খান (স্বপন-৩৫), বাবু (বুক কাটা বাবু-২৮) সহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামী করে টঙ্গী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

টঙ্গী মডেল থানার এ মামলার এস আই আশরাফুল হাসানের সাথে নিহত সৈকত হোসেনের মা মুঠোফোনে মামলা সমন্ধে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলার তদন্তভার আমার কাছে নেই। এই মামলা এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দেখবে।

তবে এ মামলার বর্তমান অবস্থা কি এবং এর বাস্তব অবস্থান কি তা নিয়ে সঙ্কা নিহত সৈ্কত হোসেনের মায়ের।

এ ব্যাপারে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান জানান, এর আগে এ মামলার আরো তিন জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের আওতাধীন রয়েছে।

তবে হঠাৎ করেই যেন সব থমকে গেছে তেমন কোন অগ্রগতি নেই আসামিরা ফেইজবুক সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে কাউকে তোয়াক্কা না করে নানা প্রচারনা চলিয়ে যাচ্ছে এবং ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজ এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতে আসামিদের ঘুরে বেড়ানো আর তাদের গ্রেফতার না করাটা নিতান্তই প্রশ্ন বিদ্ধ।

টঙ্গী মডেল থানা। মামলা নংঃ ৩৪ জি আর নংঃ ৬৭৯/১৭।