টঙ্গী ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় হিট চেম্বার বিস্ফোরণে নিহত ২,আহত-২১॥ জিএম গ্রেফতার

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটায় গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকার ‘ন্যাশনাল ফ্যান লিমিটেড’ কারখানায় পুটিং ও পেইন্টিং সেকশনের হিট চেম্বার বিস্ফোরণে ২ শ্রমিক নিহত এবং ২১ শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি ১১ জনকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানায়, কারখানার পুটিং ও পেইন্টিং সেকশনে ফ্যানে রং লাগানোর পর তা হিট চেম্বারে শুকাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। এসময় হিট চেম্বারের মেশনিটি অতিরিক্ত গরম হয়ে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সামছুল হক (১৬) ও তাইজুল ইসলাম (১৮) ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং নারীসহ ১০ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়। বিস্ফোরণের সাথে সাথে বিদুুৎ বিভ্রাট ও কারখানায় আগুন লেগে যায় এবং কারখানার ছাদ ধ্বসে পড়ে। শ্রমিকরা আতংকগ্রস্ত অবস্থায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্ধকারে লোহা লক্করের আঘাতে আরো ১১ শ্রমিক আহত হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকদের সহায়তায় নিহত ২ শ্রমিকের মৃত দেহসহ গুরতর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার অগ্নিদগ্ধ গুরতর আহত ১০ শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ এবং বাকি আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।


আহতরা হলেন:- কবির হোসেন (১৮), রাসেল (১৮), লাল চান (২৫), মোশারফ (১৮), তানজনিা (২২), কাকলী (২০), সালমা (১৮) রনি (১৮) আসিফ (১৮) আতিকুল (২০) আলমগীর (২০) রিপন (১৮), সাজ্জাদ (১৭), রাইয়ান (২৭), রিমন (১৮), আকতারা (৪০), আকাশ (১৮), বাবু (১৮)।
খবর পেয়ে ঘটনার পর পরই গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এডিশনাল এসপি মো.আহসান হাবীব, গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি আমিরুল ইসলাম, ট্রাফিক পুলিশের এএসপি মো. আশরাফুল আলম, টঙ্গী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন, ওসি অপারেশন মো. জাহিদুল ইসলাম, ওসি তদন্ত বাবু সুব্রত কুমার পোদ্ধার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত ও আহত শ্রমিকদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ কারখানার জেনারেল ম্যানেজার গাজনাফার আলী হায়দারকে জিগ্গাসাবাদের জন্য আটক করেছেন বলে কারখানার নেতৃবৃন্দ এ প্রতিনিধিকে জানান।
এ বিষয়ে কারখানার জেনারেল ম্যানেজার গাজনাফার আলী হায়দার বলেন, পেইন্টিং সেকশনে কাজ করার সময় অতিরিক্ত হিট হওয়ায় হঠাৎ হিট চেম্বারটি বিস্ফোরণ হয়। এতে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে। এব্যাপারে ওই সেকশনের দায়িত্বে থাকা কারো কোন ভুল বা ত্রুটি আছে কি না তা অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। ফলে অনেকের প্রাণ বেঁচে গেছে। তবে কারখানার শ্রমিকরা বেশ কিছু আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে আমরা পৌঁছার আগেই হাসপাতালে পাঠিয়েছিলো। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানকার শ্রমিকরা আহত হয়ে আটকা পড়ে। আমরা আসার পর আগুন নিভিয়ে তাদেও উদ্ধার করি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো নির্ণয় করা যায়নি বলে তিনি জানান।
কারখানায় বিস্ফোরণের পর কারখানায় ভিড় জমিয়েছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের স্বজনরা। এ ঘটনায় কারখানা এলাকায় শোক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।