টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের “কিন্ডারগার্টেন” গুলোর দুর্দিন

প্রকাশিত

খায়রুল খন্দকার , ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: প্রাণঘাতী  করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের কিন্ডারগার্টেন গুলোর পাশাপাশি ‘ভূঞাপুরের বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন’ গুলোর দুর্দিন যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন “ভূঞাপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন”।

‘কিন্ডারগার্টেন তথা ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুল গুলো সরকার বা অন্য কোন সংস্থার কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এর সংখ্যা সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের আনুমানিক পরিসংখ্যান ৬০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ভূঞাপুর উপজেলায় রয়েছে ৩০-৩৫ টি প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায় সাত হাজার ছাত্র ছাত্রী লেখা পড়া করে। সেই সাথে প্রায় ছয়’শ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য গত ১৬ মার্চ দুপুরে অন্যান্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কিন্ডারগার্টেন) গুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ৯৯% ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত। অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভর্তুকি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ঈদুল ফিতরের পরে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ আসে, তাহলে এপ্রিল মাসের ঘর ভাড়া, সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দের ৩ মাসের বেতন সহ অন্যান্য ব্যয়ভার এই ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে।’ এ অবস্থায় ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকলেই দিশেহারা। তারা সবাই বর্তমানে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছেন। একদিকে মহামারী করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে জীবিকা নির্বাহ। এর উপর আবার অনেকের শেষ আশ্রয়স্থল প্রাইভেট টিউশনি, সেটাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলার গোবিন্দাসী কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক  বলেন, আমার পরিবারের আয় রোজগারের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে কিন্ডারগার্টেনে চাকরি এবং টিউশনি । করোনা ভাইরাসের কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোও বন্ধ ঘোষণা করেছেন সরকার। ফলে আমাদের উপার্জনের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমি না পারছি বলতে, না পারছি সইতে। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

ভূঞাপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ খাইরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সারাবিশ্বের মানুষ যখন আতঙ্কিত, ঠিক তখনি বাংলাদেশ সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এতে করে আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অনেক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের আগে যদি প্রতিষ্ঠান খোলা না হয় তাহলে এপ্রিল মাসের ঘর ভাড়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দের ৩ মাসের বেতন ভাতা দিতে হবে। যেটা পরিচালকদের কাছে অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আপনার মহানুভবতায় যেখানে গৃহহীন-ভূমিহীনরা ৬ মাসের খাদ্য ও নগদ অর্থ পাবে। গার্মেন্টসের মালিক শিল্পপতিরা তাদের শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা পাবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাসায় বসে থাকলেও তাদের বেতন-ভাতাসহ সকল সুবিধা ভোগ করবে। সেখানে বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই বিশাল ব্যয়ভার বহনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ব্যয় অনুপাতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করলে এই বিশাল শিক্ষক সমাজ আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে’।