টাঙ্গাইলে ৭ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার

প্রকাশিত

আরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সেতু নির্মাণ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছেন ঠিকাদার। এতে ওই এলাকার সাত গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ২০১৭ সনের ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু এবং একই সনের ২৫ এপ্রিলের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কার্যাদেশ থাকলেও
অদ্যাবধি অর্ধেকও করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সুত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফাজিলহাটি ইউনিয়নের ফাজিলহাটি থেকে বটতলা,
গোয়ালবাথান ও টুকচানপুর হয়ে চরপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোামটার দীর্ঘ একটি ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে। যে সড়ক ব্যবহার করে এলাকার ৭-৮ টি গ্রামের মানুষ। সড়কের মাঝামাঝি দুটি স্থানে বিচ্ছিন্ন থাকায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বার্ষিক
উন্নয়ন কর্মসুুচি (এডিপি) প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৬০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটির নির্মাণ বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৪ লক্ষ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থ্রী ব্রাদার্সের মালিক বাবুল মিয়া। একই সড়কে একই সাথে শুরু
হয়ে অন্য একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং তা জনচলাচলে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৬০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সড়কটির এপার-ওপারের মানুষ। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২ টি সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ সড়ক পথে চলাচল করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এ এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার ব্যবস্থা নিলেও প্রতারক ঠিকাদারের উদাসীনতায় তা আলোর মুখ দেখছে না। ফাজিলহাটি ইউপি চেয়ারম্যান
তোফাজ্জল হোসেন জানান, ওই সড়কে ৭-৮ টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এছাড়া জানমাহমুদাবাদ বিদ্যাধাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীও চলাচল করে। ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি মাদ্রাসা ও জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। যথা সময়ে সেতুর
নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তিনি অতিসত্ত্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতু সংলগ্ন বাসিন্দা জানান, নির্মাণ কাজ শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪ দল নির্মাণ শ্রমিক পরিবর্তন হয়েছে। কাজ যেটুকু হয়েছে তাতে অনেক অনিয়ম দেখা গেছে। নির্ধারিত উচ্চতার
চেয়ে ২ ফুট নিচু করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল সম্ভব হবে না। রড, সিমেন্ট, পাথর, বালুসহ অন্য নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নি¤œমানের । ৩ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্মাণ সামগ্রীর জোগান এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণে কাজে গতি নেই। মাঝে মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসে পরিদর্শন করে যান কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়
না। এব্যাপারে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ২০১৭ সালে ২৫
এপ্রিলের মধ্যে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করার কথা। ইতিপুর্বে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থ্রী ব্রাদার্সকে মৌখিকভাবে একাধিকবার এবং লিখিতভাবে ৪ বার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবুল মিয়ার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। সেতুর স্লাব ঢালাইয়ের জন্যে আনা বালু ও পাথর নি¤œমানের হওয়ায় ইতিমধ্যে তা বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু
যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না সেহেতু ধারণা করা হচ্ছে কাজ ফেলে প্রতিষ্ঠানের মালিক পালিয়েছেন।