টুপি নিয়ে মুখোমুখি

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক -রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় ভয়ঙ্কর এ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তবে, রায়ের দিন তার মাথায় টুপি থাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। টুপি রহস্য বের করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যেই তদন্তে নেমেছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘রায়ের দিনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিগ্যানসহ দুই জঙ্গির মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন (আইএস) এর যে টুপি ছিল, সেটা কারাগার থেকেই এসেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মিলেছে। টুপিটা তার পকেটেই ছিল। কারাগার থেকে আনার পথে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকে। তখন আসলে বাইরে থেকে টুপিটা সরবরাহ করার সুযোগ নেই। তারপরও আমরা এখনও তদন্ত করছি। তদন্তেই বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।’

গোয়েন্দাদের এমন দাবির সঙ্গে একমত নন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কারাগার থেকে আসামির টুপি রাখার সুযোগ নেই। আমরা সেভাবেই তাদের রাখি। কারাগার থেকে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে যায়। তখন তো তাদের মাথায় টুপি ছিল না।’

এদিকে রায়ের সময় আদালতে রিগ্যানের টুপি পরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী কীভাবে তার মতাদর্শের অনুসরণ ঘটাতে পারে। তাও আবার রায় ঘোষণার সময়।

এজন্য অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এরপরই টুপি তদন্তে নামে গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে সশস্ত্র জঙ্গি হামলা হয়। জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২২ জন প্রাণ হারান। প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিচারক আসামি রিগ্যানসহ ৭ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।