ঠাকুরগাঁওয়ের মুনছুর আলীর বিষমুক্ত মালটা চাষ

প্রকাশিত

মো.সাদ্দাম হোসেন,ঠাকুরগাঁও – মালটা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও সমতল ভূমিতেও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভবনা। উত্তরের কৃষি প্রধান এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মালটা। মাটির গুনাগুন ঠিক থাকলে সমতল
এলাকাতেও মালটা চাষ করে লাভবান হতে পারেন কৃষকরা এমনটাই জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার সাতর ইউনিয়নের
গাঙ্গর গ্রামের সফল মাল্টা চাষি মুনছুর আলী। মুনছুর আলী জানান,শখের বসে কয়েক বছর আগে বাড়ির
আঙ্গিনায় একটি মাত্র গাছের চারা রোপন করেন। এতে বেশ ভালো ফলন দেখতে পেয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৫বিঘা জমিতে বারি-
১জাতের মালটা চাষ শুরু করেন তিনি। এবার এক একটি গাছে গড়ে প্রায় ১০০-১২০টি করে মালটা ধরেছে। তিনি জানান,অন্যান্য ফল চাষে চেয়ে মালটা চাষ লাভজনক এবং খরচও কম। চারা রোপনের দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়।এ ছাড়া কোনো প্রকার কীটনাশক,ফরমালিন বা পেস্টিসাইটের প্রয়োজন হয় না। এ জন্য এটা বিষমুক্ত ফল। গড়েয়া এলাকার ফল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম মালটা কিনতে এসে বলেন,এ বাগানের মালটা দারুণ রসালো এবং বাজার আমদানিকৃত যে কোনো মালটার চেয়ে বেশি মিষ্টি। তাই
বাজারে বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়া যায়। একই গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল মিঞা বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা মালটার মিষ্টতা
যেখানে ৯-১০শতাংশ সেখানে এসব মালটার মিষ্টির পরিমান ১৩- ১৪শতাংশ। মুনছুর আলীর মালটা চাষের সাফল্য দেখে এলাকার বেকার
যুবকরাও মালটা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক
কেএম মাউদুদুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক কারণে এ এলাকার মালটা চাষের উজ্জ¦ল সম্ভবনা রয়েছে।এ মালটা-তে নেই কোন
ফরমালিন,নেই কোনো ঝুঁকি।তাই এই অঞ্চলের মালটা হতে পরে অনেক জনপ্রিয়। মালটা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষকদের
প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।