ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বেশ কয়েকদিন ধরে পুলিশ ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক ও কিছু সাধারণ মানুষকে থানায় তুলে নিয়ে এসে নানা ভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এ রকম কার্যকলাপ দেখে আতংঙ্কে রয়েছে অন্যন্যা সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ। পুলিশের এই রকম হয়রানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। হয়রানি থেকে মুক্তের জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন অনেকেই। জানা গেছে, মাদকমুক্ত করতে ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ গত এক বছরে বিভিন্ন ৬টি থানায় থানায় ৯ শতাধিক মামলা, ১ হাজার জনের বেশি মাদক ব্যবসায়ি ও মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পরেই সেই সকল মাদক ব্যবসায়ি জামিনে বেড়িয়ে আবারো একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। ইতিপূর্বে এ সকল মাদক ব্যবসায়ি ধরা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়িকে আটকের পড় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি কালে। চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ ঠাকুরগাঁওয়ে আবারো মাদকের বিস্তার ঘটেছে। যা নিয়ে অভিভাবক ও সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা তরুন ও যুবকদের ভবিষৎ নিয়ে উদ্ধিগ্ন। এ নিয়ে চলতি মাসের ১৭ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও রোড প্রেসকাবের সভাপতি ও স্থানীয় প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল করিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “পৌর শহরের ১২ নং ওয়ার্ডে চলছে প্রকাশ্যে মাদক মেলা ও যুব সমাজ ররক্ষায় এলাবাসীর আবেদন” শিরোনামে একটি মন্তব্য কলাম পোষ্ট করেন। পুলিশ ওই প্রবীন সাংবাদিকের ফেসবুকের পোষ্টটি দেখে গভীর রাতে সৈয়দ আব্দুল করিমকে বাসা থেকে তুলে থানায় আসেন। এ সময় সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল করিমকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বলে ওই সাংবাদিক জানেিয়ছেন। পরে অসুস্থবোধ হলে ভোর রাতে পুলিশ সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল করিমকে ছেড়ে দেয়। ১৫ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের আর এক তরুন সংবাদকর্মী আব্দুল আওয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “মাদক ব্যবসায়ীর সাথে পুলিশের সিন্ডিকেট ! সেবককারীরা আটক, বিক্রেতারা গা ঢাকা বিস্তারিত আসছে,,,। এ নিয়ে ওই সংবাদকর্মী নিজ ফেসবুকের টাইম লাইনে একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন। তাৎক্ষনিক ডিবি পুলিশের কতিপয় কর্তকর্তা তাকে মুঠো ফোনে পোষ্ট তুলে ও এসপি স্যারের সাথে দেখা করার জন্য আদেশ প্রদান করেন। ওই সংবাদকর্মী আতঙ্কিত হয়ে পড়লে মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ তাকে খুঁজতে শুরু করলে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের কথামত এসপি ফারহাত আহমেদের কাছে দেখা করতে যান আব্দুল আওয়াল। এ সময় এসপি তরুন সংবাদকর্মী আব্দুল আওয়ালকে খারাপ ভাষায় গালি গালাজ করেন ও মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকী দেন বলে জানা গেছে অভিযোগ করেছেন। পুলিশের হয়রানি স্বীকার ঠাকুরগাঁও রোড প্রেসকাবের সভাপতি ও স্থানীয় প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল করিম জানান, আমি ফেসবুকে পৌর শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের মাদকদ্রব্য বি¯Íার নিয়ে একটি মন্তব্য কলাম লেখেছিলাম। কিন্তু অর্ধশতাধিক পুলিশ ওই রাতে বাড়িতে গিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। পুলিশ ঠাকুরগাঁও রোড প্রেসকাব তুলে দেওয়ার ও পুলিশের বিরুদ্ধে কোন প্রকাশ নিউজ না করা হুমকী প্রদান করেন। এ সময় আমাকে জোরপূর্বক ক্যামেরায় ভিডিও ধারন করে স্বীকারোক্তি প্রদান করান এসপি সাহেবের নির্দেশে। পরে আমি অসুস্থ হয়ে গেলে গভীর রাতে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের হয়রানির বিষয়টি এলাকায় মানুষের কাছে প্রকাশ করলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী। গতকাল পুলিশ আবার আমার বাড়িতে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুকমী প্রদান করেন। হয়রানি স্বীকার তরুন সংবাদকর্মী আব্দুল আওয়াল জানান, ফেসবুকে মাদক ব্যবসায়িদের সাথে পুলিশের সিন্ডিকেট নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করেছেন। পুলিশ সুপার ডেকে নিয়ে গিয়ে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। পুলিশের বিষয়ে কোন কিছু যেন না লেখি জোরপূর্বক ভিডিও ক্যামেরা সামনে স্বীকারোক্তি নিয়েছেন আমার কাছ থেকে। পরে পুলিশ আমাকে চাঁদাবাজি ও মাদকব্যবসার সাথে জড়িত বলে মামলার হুমকীও দিয়েছেন। এ নিয়ে আমি ও অন্যান্য সাংবাদিকরা আংতঙ্কে রয়েছে। সু-শাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল লতিফ জানান, পুলিশ জনগনের বন্ধু বলেই বিবেচিত। পুলিশ ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা রকম সামাজিক কর্মকান্ডে সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়া পুলিশ যে খারাপ কাজের সাথে জড়িত, সেটিও সত্যি। কিন্তু পুলিশ সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন ও মামলার হুকমী দেবে এটি কখনই কাম্য নয়। “পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ” এর শ্লোগানটিকে সামনে রেখে আগামীতে কাজ করবে এটাই প্রত্যাশা সকলের। ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশের ওসি তদন্ত কফিল উদ্দিন জানান, সাংবাদিককে ফেসবুকে পুলিশের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য পরিবেশন করার জন্য ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। উনারা সঠিক তথ্যাদি দিতে পারেননি তবুও কোন প্রকাশ অসস্মান করা হয়নি। পুলিশ সব সময় জনগণের জন্য কাজ করে। আমরা চাই সঠিক তথ্য উপস্থাপনা করুন সাংবাদিকসহ সকলেই। হয়রানির বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনটি রিসিভ করেননি। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, এত বড় একটি বাহিনীতে কিছু দুষ্ট লোক থাকতেই পারে। তবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতর জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছে।