ঠাকুরগাঁওয়ে বিষপানে মা-মেয়ের মৃত্যু, আটক গৃহকর্তা!

প্রকাশিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে একই দিনে বিষপানে দুপুরে মা সাবিনা বেগম এবং রাতে প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করতে গিয়ে আটক হয়েছেন সাবিনা বেগমের স্বামী।

মঙ্গলবার দুপুর একটায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামে সাবিনা বেগম (২৫) ও তার মেয়ে শারমিন আক্তারের (১৫ ) বিষপানের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা সাবিনার বিষপানের বিষয়টি টের পেয়ে মা-মেয়েকে আটোয়ারী হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে। শারমিনের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার পর তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

সাবিনা প্রায় দুই বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর সংসারে অভাবের কারণে পিত্রালয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েও তিনি আরোগ্য লাভ করতে পারেননি। তার প্রতিবন্ধী মেয়ে শারমিনের বাকশক্তি নেই, চলাফেরা করতে পারত না।

সাবিনার শ্বশুর বাড়ির লোকজন দাবি করেছেন, চিকিৎসা করেও সুস্থ হতে না পেরে হতাশা থেকে মেয়েকে নিয়ে বিষপান করেছেন তিনি।

খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর গ্রাম থেকে সাবিনার বাবার বাড়ির স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে বিষ খাইয়ে হত্যার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সাবিনার ভাই আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার বোন ও ভাগ্নিকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে  হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।’

থানায় আটক সাবিনার স্বামী আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার স্ত্রী ও মেয়ে বিষপান করেছে বলে বাড়ির লোকজনের মুখে শুনেছি। পরে স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে আমি থানায় জানাতে এলে আমাকে আটক করা হয়।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘লাশ দুটো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া নেবে।’