ঠাকুরগাঁও-কৃষকের ঘরে ঘরে কেঁচো কম্পোষ্ট সার উৎপাদন

প্রকাশিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি॥ কৃষি জমির ক্ষয়রোধ ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে উৎপাদন হচ্ছে জৈব পদ্ধতিতে কেঁচো কম্পোষ্ট সার। এ সার ব্যবহার করে কাঙ্খিত ফলনও পাচ্ছে চাষিরা। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের উপর চাপ কমায় উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর জুনের মধ্যেই সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে দেয়া হবে জৈব সারের ব্যবহার ও উৎপাদন।
গেল বছর শুরুর দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ছোটবালিয়ার জংলিপাড়া গ্রামের হাতে গোনা কয়েকজন চাষি কেঁচো সংগ্রহ করে শুরু করে জৈব পদ্ধতিতে সার উৎপাদন। শুধু তাই নয়, সেই সার জমিতে ব্যবহার করে আশানুরুপ ফলনও পাচ্ছে চাষিরা। এতে আশপাশের কয়েক গ্রামের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সদর উপজেলার সিংগিয়া গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী বলেন, সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে কেঁচো কম্পোট সার প্রয়োগে খরচ হয় আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে সেই ফলনে খরচ হয় ৩ গুন টাকা।একদিকে এই কেঁচো কম্পোষ্ট সার মাটিকে যেমন করে উর্ভর ও সুরক্ষা তেমনি ফলন ও ভাল হয় খরচ ও কম হয়। ওই গ্রামের রহিম উদ্দিন শাহ্ ,এবাদুল্লাহ ও কলিম উদ্দিন সহ একাধিক কৃষক তৈরি করছে এই সার।
কৃষকরা জানান,উৎপাদিত এই সার নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ভাল দাম পাচ্ছেন তারা। এলাকায় অনেক বেকার যুবক কেঁচো কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে উপার্জনে নেমে পড়েছে। এজন্য সহজ শর্তে ঋন সহায়তার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককেএম মাউদুদুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার জংগলিপাড়া ও বগুলাডাঙ্গী গ্রামের সাড়ে ৭শ পরিবার কেঁচো কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করছে। এ সারের উৎপাদন ছড়িয়ে পড়েছে জেলার পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলাতেও। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ কর্মসুচি নিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষকরা বলছেন,এই জৈব সার ব্যবহারে একদিকে যেমন ফলন বাড়বে, অন্যদিকে উৎপান খরচ হ্রাস পাবে সার ব্যবহারে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মাটিও ফিরে পাবে তার প্রাণ।